চার সন্তানের জননী বিউটি বেগমকে (৩২) শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে রোববার দুপরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের বাবা জহির উদ্দিন ও তার সন্তানেরা। এ সময় নিহতের স্বামী জান্নাতুল ইসলামের (৩৮) ফাঁসি দাবি করেন স্বজনেরা।

অভিযুক্ত জান্নাতুল পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রামের বাসিন্দা। নিহত গৃহবধূ একই গ্রামের জহির উদ্দিনের মেয়ে। এ দম্পতির দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তাদের সর্বশেষ সন্তান লোকমানের বয়স মাত্র ৯ মাস।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার অভিযোগ করে বলে, ‘জান্নাতুল পাশের কালিরহাট বাজারে প্রায় প্রতিদিন জুয়া খেলে। এই জুয়া খেলে সে চার লাখ টাকা ঋণ করে। ওই ঋণের জন্য লোকজন প্রতিদিন বাড়িতে এসে চাপ সৃষ্টি করে। পরে ব্রাক থেকে লোন নেয়ার কথা বলে গত ১৯ সেপ্টেম্বর লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তি থেকে ২৩ হাজার টাকা ঋণ নেয়। কিন্ত ওই টাকা দিয়েও সে কালিরহাট বাজারে জুয়া খেলে। বিষয়টি জানতে পেরে বিউটি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে জান্নাতুল তাকে হুমকি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরে জান্নাতুল লোক মারফত ১৬ হাজার ৫০০ টাকা স্ত্রীর কাছে পাঠায়। এমতাবস্থায় জান্নাতুল বাড়িতে না গিয়ে সারারাত সেখানে জুয়া খেলে। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর বিউটি মৌসুমী নামে একজনকে সাথে নিয়ে আবার কালিরহাট বাজারে জুয়া খেলার স্থানে গিয়ে অবশিষ্ট ৬৫০০ টাকা ফেরত জান্নতুলের কাছে ফেরত চায়। কিন্ত জান্নাতুল টাকা না দিয়ে বিউটিকে মারধর করার জন্য উদ্যত হয়। বাজারে লোকজন থাকায় তাকে মারতে না পেরে বলে, আজকে বাড়িতে গিয়ে তোর শেষ দেখে ছাড়ব। রাতে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিউটিকে ধরে মারধর করে জান্নাতুল। এ ঘটনার পর পুলিশ ঘরের ধর্ণার সাথে বিউটির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে লালমনিরহাট মর্গে পাঠায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মা ছামিনা খাতুন, বোন খালেদা বেগম, শিউটি বেগম, ভাই ছামিউল, ভাগনি সালমা বেগম, বড় ছেলে গোলাম মোস্তফা ও বিউটির বোন জামাই শাহিনুর ইসলাম।

এছাড়া শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে নিহত বিউটির স্বজনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিউটির ছয় বছরের মেয়ে আতশী বেগমকে তার বাবা জান্নাতুল অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখেছে।

স্বজনদের আরো অভিযোগ, বিউটিকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যা করে ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রেখে জান্নাতুল পালিয়ে যায়। তারা এ ঘটনার বিচার চেয়ে জান্নাতুলের ফাঁসি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের ননদ শ্যামলী আক্তার। এ বিষয়ে জান্নাতুলের মা ও ভাবি মনোয়ারা বেগম বিউটিকে শারীরিক নির্যাতনে হত্যার কথা স্বীকার না করলেও জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেন।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ওরা (নিহতের পরিবার) যে অভিযোগ করছে তা সত্য নয়। এ ব্যাপারে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। লাশ পোস্টমর্টেম হয়েছে। রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।