রংপুরের মিঠাপুকুরে টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের নিত্যপণ্যের বাজারে। মাছ-মুরগি-সবজিসহ প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে।
রোববার (৮ অক্টোবর) উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
দাম নির্ধারণ করার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পেঁয়াজ, আলু ও ডিমে সরকারের নির্ধারিত দামও মানছেন না ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রিতে কোনো পদক্ষেপ নেই সংশ্লিষ্টদের। এতে বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছে না নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ।
জানা গেছে, টানা বৃষ্টির অজুহাতে উপজেলার শঠিবাড়ী হাটে পণ্যবাহী ট্রাক কম এসেছে। বাজারে তাই সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এ কারণে মিঠাপুকুরের বিভিন্ন হাট বাজারে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে আগাম শীতকালীন সবজি।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, রোববার প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। খোলা বাজারে দেশী পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে আবারো ৯০ টাকায় উঠেছে, যা গত সপ্তাহে ৮০ টাকায় নেমেছিল। পাশাপাশি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খুচরায় প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা আর দেশী পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সেহিসাবে বাজারে এক কেজি আলুতে অন্তত ১২ টাকা আর প্রতি কেজি পেঁয়াজে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। ফার্মের ডিমের হালি ৪৮ টাকা বেঁধে দিলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।
প্রায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। বড় আকারের গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকায়, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলা ও বরবটির দাম ছুঁয়েছে ১০০ টাকা। দরদাম করে নিলেও ৮০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। ছোট ফুলকপি ৬০ টাকার কমে মিলছে না।
এছাড়া ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুলের কেজিও ৬০ থেকে ৮০ টাকা। পটল ও ঢেঁড়সের কেজিও ৬০ টাকা। তবে সস্তার সবজি হিসেবে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি দরে।
অন্য দিকে গত কয়েক দিন ধরেই কাঁচামরিচের দাম বড় ব্যবধানে ওঠানামা করছে। রোববার বিভিন্ন বাজারে কোথাও ২৪০ টাকা আবার কোথাও ২৫০ টাকা কেজি দরে এ পণ্যটি বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে শঠিবাড়ী হাট বাজারের সবজির আড়তগুলোতে সরবরাহ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আড়তে ভোর পর্যন্ত সবজির চালান আসেনি। এ কারণে সবজির দাম বাড়তি। বৃষ্টি কমলে দাম কিছুটা কমতে পারে।
মাছের বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। নদী ও হাওরের মাছ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে আগথেকেই। চাষের মাছের দামও এখন বেশ চড়া। এ ক্ষেত্রেও সরবরাহ সঙ্কট এবং বাজারে ইলিশ কম থাকার কথা বলছেন বিক্রেতারা। আগে এক কেজি ছোট ও মাঝারি আকারের পাঙাশের দাম ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা, একই মাছ এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। দাম বেড়ে তেলাপিয়ার কেজি ২৫০ টাকা ছাড়িয়েছে। কোথাও কোথাও ৩০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে। চাষের কই, পাবদা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৪০ টাকার বেশি দরে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের চাষের রুই-কাতলার দাম হাঁকানো হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি। এক কেজির বেশি ওজনের হলে ৪০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। আর বড় মাছের কেজি ছুঁয়েছে ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেজিতে তিনটি হবে এমন আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে, যা গত বছর একই সময়ে ৪০০ টাকা মূল্য ছিল। আকারে একটু বড় ইলিশ দামেও বেশি। একেকটি ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের এক কেজি ইলিশের দাম চাওয়া হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকার বেশি। এক কেজি সাইজের ইলিশের কেজি দেড় হাজার টাকা ছাড়িয়েছে।
গোশতের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। দুই সপ্তাহ আগে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া সেই ব্রয়লার এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। লেয়ার মুরগি ৩১০ টাকা, পাকিস্তানি ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে এবং দেশী মুরগি আগের মতোই ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া খাসির গোশত আগের মতোই এক হাজার ১০০ টাকা ও গরুর গোশত ৭৫০-৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।





