চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী শাহ্ মনজিল সিরাত ময়দানে ১৯ দিনব্যাপী ৫৩তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সিরতুন্নবী সা:-এর ১৭তম দিবসের অনুষ্ঠান গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়। তিন অধিবেশনে বাঁশখালী পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা মোশাররফ হোছাইন, চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার আঞ্জুমানে তোলাবায়ে সাবেক্বীনর সভাপতি আলহাজ মাওলানা মমতাজুর রহমান ও চট্টগ্রাম দারুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা মুহসিন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও কলামিস্ট আলহাজ আহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমদ খান। ইবাদতের গুরুত্ব ও স্বরূপ বর্ণনা বিষয়ে আলোচনা করেন লোহাগাড়া পুঁটিবিলা হামেদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক হাফেজ মাওলানা ইকবাল হোছাইন, ‘আর্থসামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলামের ভূমিকা’ বিষয়ে আলোচনা করেন কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প সিকদারপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুর রহীম বশরী, দৈনন্দিন জীবনে মাসনুন দোয়াগুলোর বিবরণ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম দারুল উলুম কামিল মাদরাসার আরবি প্রভাষক ড. মাওলানা মাহবুবুর রহমান, পিতামাতা ও সন্তানসন্ততির পারস্পরিক অধিকার সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে আলোচনা করেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ খোবাইব, কুরআন সুন্নাহর আলোকে নেতৃত্বের তাৎপর্য ও গুণাবলি এবং বর্তমান বিশ্ব মুসলিম নেতৃত্ব বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা এনামুল হক, আলোচনা করেন বাংলাদেশ তাহরিকে খতমে নবুয়ওত মহাসচিব আলহাজ মাওলানা মুফতি আরিফুর রহমান, ‘মানবাধিকার ও ইসলাম’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদাত জামান খান (মারুফ), ‘তাওবা ও ইস্তেগফারের ফজিলত ও নিমাবলি বর্ণনা’ বিষয়ে আলোচনা করেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ জিয়াউল করিম।
বক্তারা বলেন, একে অপরের ক্ষতিসাধনে লিপ্ত হলে সমাজ বিপর্যয়ে ছেয়ে যায়। ক্ষতি ইসলামে নিষিদ্ধ হলেও আমাদের সমাজের মানুষের অন্যায্য অনৈতিক ব্যবহারে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে অন্য মানুষ। অফিসে, পরিবারে, সমাজে, রাজনীতিতে, দলে ও সভাসমিতিসহ নানা কাজে নিজেকে জাহির করা, নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা, কিছু বাড়তি সুবিধা নেয়ার জন্য মানুষ মিথ্যাচার, অপবাদ, নিন্দা, ষড়যন্ত্র, চাকরিচ্যুত থেকে শুরু করে হত্যার মতো জঘন্য কাজ করছে। নিজের জেদের লাগাম টানতে পারছে না মানুষ। একে অপরের ক্ষতিসাধন করা একেবারে মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সা: অন্যের অনিষ্ট তথা ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকাকে সদকা বা দান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।





