সিলেটের ওসমানীনগরে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে বুরুঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিতু মিয়া (৬৫) লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উভয় দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জানা গেছে, ২৩ সেপ্টেম্বর বুরুঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের কমিটির পরিচিত সভায় বিএনপি সভাপতি জিতু মিয়া আওয়ামী লীগের সমালোচনা করেন। ওই সভার আলোচনা স্থানীয় একটি অনলাইন টিভি লাইভ প্রচার করে। ৪ অক্টোবর এর প্রতিবাদে স্থানীয় বুরুঙ্গা বাজারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মিছিল শেষে সভার আয়োজন করে। সভায় ঘোষণা করা হয়, বিএনপি সভাপতিকে এর জন্য লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে হবে, না হয় বুরুঙ্গা বাজারে তাকে প্রতিহত করা হবে। কিন্তু বিএনপি সভাপতি লাইভে এসে ক্ষমা চাননি। রোববার সন্ধ্যার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল রোডে রিকশার গতিরোধ করে জিতু মিয়ার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।
বুরুঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদির বলেন, ‘আমি গোয়ালাবাজারে ছিলাম। শুনেছি মুজিব কোট ও আওয়ামী লীগ নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় বুরুঙ্গা বাজারে বিএনপি সভাপতির সাথে একটি সমস্যা হয়েছে।’
জিতু মিয়া বলেন, ‘ইউনিয়ন যুবদলের পরিচিতি সভায় আওয়ামী লীগের দুঃশাসন নিয়ে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। তারা আদর্শিকভাবে জবাব না দিয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে আমার গায়ের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয়।’
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুদুল আমিন বলেন, ‘আমি সারাদিন এসপি স্যারের অফিসে মিটিংয়ে ছিলাম। মিটিং থেকে বিষয়টি শুনেছি।’
এদিকে বুরুঙ্গা বাজারে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হাতে বিএনপি সভাপতি লাঞ্ছিত হওয়ায় উপজেলা বিএনপি সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আহমদ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।





