ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানের (৪৫) লাশ তিন দিন পর ফেরত দিয়েছে ভারত।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রত্নাই সীমান্তের শূন্যরেখায় ভারতের ইসলামপুর থানার পুলিশ বালিয়াডাঙ্গী থানার পুলিশের হাতে লাশটি হস্তাস্তর করে।

নিহত নুরুজ্জামান বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই গ্রামের তসলিম উদ্দীনের ছেলে। তার চার সন্তান রয়েছে।

লাশ হস্তান্তরের সময় সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশর (বিজিবি) সদস্যরা ছাড়াও বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহত নুরুজ্জামানের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় পুলিশের কাছ থেকে লাশ পাওয়ার পরপরই নিহত নুরুজ্জামানের বাবা তসলিম উদ্দীনসহ স্বজনদের হাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আমজানখোর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আকালু মোহাম্মদ ডংগা।

জানা যায়, গত সোমবার ভোররাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই সীমান্তে ভারতীয় ভূখণ্ডের সোনামতি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে তিনি নিহত হন।
তিন দিন পর বুধবার দুপুরে লাশটি বিজিবি ও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
সোমবার দুপুরে ও মঙ্গলবার দুপুরে বিজিবির সাথে দু’দফা পতাকা বৈঠকে ওই যুবকের মারা যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বিএসএফ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন বাহিনীটি।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই গ্রামের তসলিম উদ্দিনের ছেলে গরু ব্যবসায়ী নুরুজ্জামানসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে সোমবার (২৩ অক্টোবর) ভোর রাতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই বিজিবি ক্যাম্পের সীমান্তের জিরো পয়েন্টে গরু কিনতে যান। এ সময় ওপারের ভারতীয় উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর থানার অন্তগত সোনামতী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাথারীভাবে কয়েক রাউন্ট গুলি ছোড়ে। এতে নুরজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাকিরা কোনোরকমে এপারে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে সোনামতি ক্যাম্পের বি এস এফ সদস্যরা ঘটনা স্থলে এসে নিহত নুরজ্জামানের লাশ টেনে-হিছড়ে ওপারে তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে সকালে বেউরঝাড়ী বিজিবি কোম্পানি সদর দফতরের অধীনস্ত রত্নাই বিজিবির পক্ষ থেকে পত্র প্রদানের মাধ্যমে সোনামতি ক্যাম্পের বি এস এফকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত নুরুজ্জামান ভারতীয় গরুর ব্যবসা করতেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে ছিল তার সংসার। বাবার এক বিঘা ভিটেবাড়ি ছাড়া অন্য কোনো জমি জমা নেই। ওই ভিটাতেই মা-বাবাসহ দুই ভাই বসবাস করেন।

নিহত ব্যক্তির স্ত্রী বেগম বলেন, তার স্বামী ভারতীয় গরুর ব্যবসা করতেন। কিন্তু তিনি ভারতে যেতেন না। অন্য লোকজন গরু নিয়ে আসতেন। ওই দিন তিনি কেন গিয়েছিলেন, বলতে পারছেন না। রোববার রাত ১০ আগে বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করে বের হন। এরপর আর ফেরেননি। লোকজনের কাছে শুনেছেন, গুলিতে তিনি মারা গেছেন। ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে তিনি এখন নিরুপায়।

স্থানীয় আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান আকালু মোহাম্মদ ডংগা বলেন, লাশ বুঝে পাওয়ার পরপরই নিহত ব্যক্তির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। আজ বুধবার রাতে রত্নাই এলাকায় পারিবারিক গোরস্তানে নুরুজ্জানের লাশ দাফন করা হবে।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো: তানজীর আহম্মদ বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় রত্নাই সীমান্তের জিরো পয়েন্টে উভয় দেশের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহত নুরুজ্জামানের লাশ বিজিবি ও পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।