সিলেটের ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজার হকার্স মার্কেটে ভোররাতে অগ্নিকাণ্ডে ২২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) ভোর ৫টায় (ছাগল হাটের) গোয়ালাবাজার হকার্স মার্কেটে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

খবর পেয়ে তাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নি নির্বাপক দলের কর্মীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।

এদিকে গোয়ালাবাজারে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানা গেছে। গত বুধবার এ ভবনের জন্য স্থান হিসেবে এ মার্কেটটি পরিমাপ করা হয় এবং এরপরের রাতেই সরকারি স্থানে মির্মিত হকার্স মার্কেটটি আগুনে পুড়ে যায়।

জানা যায়, মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে টিন শ্যাডের হকার্স মার্কেটে। জ্বালিয়ে ছাই করে দেয় কোটি টাকার কাপড় সামগ্রীর মালামালসহ মার্কেটের ২২টি কৌঠা। আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় মার্কেটের একটি দোকানে থাকা ১৬টি ছাগল। পাঁচটি ছাগলের অবস্থা খারাপ হলে জবাই করা হয়। হারিয়ে যায় আরো বেশ কয়েকটি ছাগল।

খবর পেয়ে তাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অগ্নি নির্বাপক দলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

মার্কেটের ছাগল ব্যবসায়ী সানুর মিয়া বলেন, আগুনে আমার ১৬টি পুড়ে গেছে। মোট ৩৩টি ছাগল ছিল। এরমধ্যে ১২টি পেয়েছি। পাঁচটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জবাই করেছি। আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মার্কেটের ব্যবসায়ী ওলিউর রহমান বলেন, আমাদের মার্কেটের সবকটি দোকান পুড়ে গেছে। আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল পুড়েছে। কিভাবে আগুন লেগেছে তা কিছুই বুঝতে পারছি না।

ইউপি সদস্য ও বাজারের ব্যবসায়ী বেলাল আহমদ বলেন, আমার ব্যবসার পাশেই হকার্স মার্কেটে আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীদের কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আগুনে সবকিছু হারিয়ে হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের অবস্থা নিঃস্ব হয়ে গেছে।

গোয়ালাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান পীর মজনু মিয়া বলেন, আমি ভোরে খবর পেয়েছি বাজারে আগুন লেগেছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করি এবং বাজারে চলে আসি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমি সেখান থেকে চলে যাই। কিভাবে আগুন লেগেছে তা বলতে পরব না।

তাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্তপ্রধান সুকুমার সিংহ বলেন, আমাদের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেড়ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে ৪০ লাখ টাকার মালামাল।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে সেখানে উপস্থিত ব্যবসাযীরা ৫৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব করা হচ্ছে। এইস্থানে সরকারি কোনো ভবন নির্মাণ হবে কি? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে গোয়ালাবাজারে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। এ্যসিল্যাণ্ডের মাধ্যমে জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এই স্থান কি না তা আমার জানা নেই।