পুলিশ-বিএনপির ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো: শরীফুল আলমসহ ১ হাজার ৯৮৪ জন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের নামে পুলিশ তিনটি মামলা করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এদিকে বিএনপি-জামায়াতের তিনদিনের অবরোধের প্রথম দিন গত মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষে দু'জন নিহত হয়। সংঘর্ষের পর ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সড়কের ছয়সূতি, বাজরা তারাকান্দি ও আগরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ মোতায়েনসহ পুশিশের টহল জোরদার করা হলেও বিএনপির দুই নেতার মৃত্যু ও অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি দুই মামলার বাদি এসআই তারেক পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের ওপর হামলা ও কর্তব্য কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে তিনি মো: শরীফুল আলমকে প্রধান আসামি করে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা ১ হাজার ৬০০ জনের নামে ১ নভেম্বর বুধবার কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা করেন। এছাড়া তিনি শরীফুল আলমকে প্রধান আসামি করে ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১ হাজার ৬০০ জনের নামে আরো একটি মামলা করেন। অপরদিকে একই দিনে উপজেলার বাজরা তারাকান্দি বাসস্ট্যান্ডে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১ নভেম্বর বুধবার থানার এসআই নূরে আলম তারাকান্দি গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে বিএনপি নেতা শফি উদ্দিনকে (৪০) প্রধান আসামি করে ৪১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞতনামা ৩০০ জনের নামে একটি মামলা করেন।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় একদল সশস্ত্রবাহিনী ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ সৃষ্টি করতে ইটপাটকেল, ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আমরা গুলির শব্দও শুনতে পাই। তাদের বাধা দিতে গেলে তারা চারদিক দিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলে। আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ হামলা চালায়। আমরা সংখ্যায় ছিলাম ১৫ জন। কোনোভাবেই নিজেদের আর রক্ষা করতে পারছিলাম না। শেষে প্রতিরক্ষার্থে আমরা বাধ্য হয়ে রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করি। এ ঘটনায় তিনিসহ থানার কর্তব্যরত এসআই দেব দুলাল, এসআই তারেক পারভেজ, এসআই নূরে আলম, এএসআই মান্নান, এএসআই সাকিনুর, এএসআই জুয়েল রানা, কনস্টেবল একরামুল কবির, ইসমাইল হোসেন, সঞ্জয় আহম্মদ, অনিক সরকার, একরামুল হক, জুলহাস মিয়া, সাকিল আহম্মেদ ও মালেক সরকারসহ ১৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়।
অপর দিকে বিএনপি দাবি করেন, অবরোধের সমর্থনে সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নিয়ে ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাওয়ামাত্র পুলিশ বাধা দেয়। বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ প্রথমে লাঠিপেটা করে, পরে গুলি ছোড়ে। এতে অনেকে গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে দু’জন মারা যান। গুলিতে নিহত বিল্লাল হোসেন স্থানীয় ছয়সূতী ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি ও মাধবদী গ্রামের কাজল মিয়ার ছেলে। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়। অপরদিকে নিহত ইউনিয়ন যুবদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ তনয় বড় ছয়সূতী চক বাজার এলাকার কাউসারের ছেলে। তিনিও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ পিপিএম (বার) সাংবাদিকদের বলেন, নিহত ব্যক্তিরা পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন কি না তা নিশ্চিত নয়।





