দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন দলটির বহিষ্কৃত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। তবে আপাতত তার নিজের নির্বাচনে যাওয়ার ইচ্ছা নেই বলে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন তিনি।
গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে আসার পর থেকে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে আলোচনা।
সম্প্রতি বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে বিতর্ক তৈরি করেন তিনি। বিএনপি নির্বাচনে না এলে নিজে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন বলেও টেলিভিশন টকশোতে বলেছিলেন এই নেতা। তবে সোমবার রাতে এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হলে কোনো ধরনের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা নেই বলে নয়া দিগন্তকে জানিয়েছিলেন তিনি।
সেদিন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি তো আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হতে পারবো না। আবার আমার দল বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করেছে। তাছাড়া নির্বাচনেও আসছে না বিএনপি। আমি প্রার্থী হবো কোন দলের হয়ে?’
নতুন কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে যাবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নতুন দলে যাবে নতুনরা। আমি তো আর নতুন না। আমি পুরনো রাজনীতিবিদ। নতুন দলে নতুন যারা আছে তারা যাক।’
মেজর আখতার প্রশ্ন রাখেন, ‘জামায়াতের লোকেরা কি নির্বাচনে যাবে? গেলে নাহয় আমিও যেতাম।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা নেই বলে সোমবার এই প্রতিবেদককে খোলাখুলিভাবে জানিয়েছিলেন তিনি।
তবে সম্প্রতি টেলিভিশন টকশোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদেরকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বহিষ্কৃত এই নেতা।
বুধবার (২২ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া এক পোস্টে একই আহ্বান জানান তিনি। কাউকে বিএনপি ছেড়ে না যাওয়ার অনুরোধ করে কৌশল অবলম্বন করার কথা বলেন আখতারুজ্জামান। পোস্টে তিনি লিখেন, ‘যারা মনে করেন নিজেদের ওপর যথেষ্ট আস্থা ও বিশ্বাস আছে এবং দলের আদর্শ ও নীতির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত তারা স্বতন্ত্র নির্বাচনে দাঁড়িয়ে যান। নির্বাচনে নিজের শক্তি ও সাহস নিয়ে লড়াই করুন। যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয় তাহলে জয় আপনাদের সুনিশ্চিত। আর যদি সুষ্ঠু ও অবাধ না হয় তাহলে আবার নতুন লড়াই শুরু হবে। জয় না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।’
পোস্টের সাথে সন্নিবেশ করা ইউটিউব-বার্তায় তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যাকে দাঁড় করাবে আপনারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। যারা জয় পাবেন, তারা জয়ী হয়ে এসে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়াকে কদমবুচি করে দলে ফিরে আসবেন। আমি তো ছয়বার বহিষ্কার হয়েছি। ছয়বারই দলে ফিরে এসেছি। আমি যা করেছিলাম, দলের মঙ্গলের জন্যই করেছিলাম। দেশমাতা সেটা রিয়েলাইজ করতে পেরেছিলেন বলেই আমাকে ফিরতে দিয়েছেন। আপনাদেরকেও দল ফিরিয়ে নেবে। আপনারা ভয় পাচ্ছেন কেন।’
বুধবার নির্বাচন কমিশন থেকে ব্যক্তিগতভাবে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্ট, ভিডিওবার্তা ও মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়ে বুধবার রাতে আবারো মেজর আখতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সবাই যদি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে তাহলে আমিও করতে পারি। মনোনয়নপত্র একটা সংগ্রহ করেছি, তবে এখন পর্যন্ত আমার সিদ্ধান্ত নির্বাচনে অংশ নেব না।’
উল্লেখ্য, শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশকয়েকবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে। বারবার দলে ফিরিয়ে নেয়া হলেও সর্বশেষ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বহিষ্কার হন তিনি।
কটিয়াদি ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কও ছিলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল বিএনপি। তবে দলটির মাঠপর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনে আনতে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তৎপর বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের বিভিন্ন কৌশলে উদ্বুদ্ধ করতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে সামনে আনা হয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষক মহল।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের পর থেকে টকশোতে অংশ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করে আসছেন আখতারুজ্জামান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যথাযথ সম্মান না জানানোর জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনাও করেন তিনি।





