রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাই স্কুলের সভাপতি পদত্যাগ করার অজুহাতে ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে করে সংসার ও পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ দিকে বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ফকির আব্দুল কাদের ছয় লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করছেন। এ বিষয়ে গত ২০ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগি শিক্ষক-কর্মচারীরা।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার ও প্রধান শিক্ষক ফকীর আব্দুল কাদের আপন দুই ভাই। রাজবাড়ী জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ফকীর আব্দুল জব্বার গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাইস্কুলটি ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।
অপর দিকে তার ছোট ভাই সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা প্রধান শিক্ষক ফকীর আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ভর্তি, শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষদের সাথে দুর্ব্যবহার ও নানা অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে ফকীর আব্দুল কাদেরকে নিবৃত্ত করতে না পেরে ফকীর আব্দুল জব্বার মনের দুখে নিজের প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ৬ জুলাই প্রধান শিক্ষক বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর ফলে ওই বিদ্যালয়ের সাধারণ ও ভোকেশনাল শাখার মোট ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে সরকারি অংশের বেতন-ভাতাদি উত্তোলন করতে পারছেন না।
এ দিকে সাধারণ শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর করার অনুরোধ করলে তিনি সভা ডেকে সব শিক্ষক-কর্মচারীর কাছে প্রত্যেকের এক মাসের বেতনের টাকা (প্রায় ছয় লাখ) দাবি করেন। তা না হলে তিনি বেতন বিলে স্বাক্ষর করবেন বলে প্রস্তাব করেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফকীর আব্দুল কাদেরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় আছি। পরে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘সারা দেশে এত দুর্নীতি হচ্ছে সেগুলো চোখে ‘দ্যাখেন না সাংবাদিক সাব, শুধু আমারটাই চোখে পড়লো’? একথা বলে তিনি মোবাইল সংযোগ কেটে দেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেও বেতন বিলে প্রধান শিক্ষককে স্বাক্ষর করাতে পারিনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, শিক্ষকদের বেতন না পাওয়ার বিষয়টি শুনেই মৌখিকভাবে শিক্ষা অধিদফতরের ডিজি মহোদয়কে বলি। তিনি আমাকে নিশ্চিত করেন আইডিয়াল হাইস্কুলের সভাপতির পদত্যাগপত্রটি গৃহীত হয়নি। তিনি স্বপদে বহাল আছেন এবং বেতন বিলে স্বাক্ষর করতে পারবেন। এ ছাড়া, শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
গোয়ালন্দ স্কুল সভাপতির
পদত্যাগের অজুহাতে শিক্ষকদের ৫ মাস বেতন নেই
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ আইডিয়াল হাই স্কুলের সভাপতি পদত্যাগ করার অজুহাতে ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী পাঁচ মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এতে করে সংসার ও পরিবার পরিজন নিয়ে...





