মধ্যরাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে হামলা চালিয়ে ঢিল ছুড়ে জানালা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে না দেখলেও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। গত শুক্রবার রাত ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের ১৬৫ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ছাত্রলীগ নেতা তাওহীদুল ইসলাম দুর্জয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। তিনি বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে ওই হলের প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টাকে তিনি অবহিত করেন। সরেজমিন দেখা যায়, ভুক্তভোগী নেতার কক্ষের জানালার কাচ ভেঙে রুমের বাইরে ও ভেতরে পড়ে আছে। পুরো কক্ষজুড়ে কাচের ছোট ছোট টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ঘটনার বিষয়ে দুর্জয় বলেন, ভোর রাত ৪টার দিকে কে বা কারা ঢিল মেরে আমার কক্ষের জানালা ভেঙে ফেলেছে। এতটা জোরে ঢিল ছুড়েছে যে কাচের টুকরো পুরো কক্ষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে। এতে আমি আতঙ্কিত হয়ে বেড থেকে নেমে মেঝেতে কাঁথা বিছিয়ে বাকি রাত কাটিয়ে দেই। সকালে উঠে এ বিষয়ে আমি হলের প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেষ্টা স্যারকে অবগত করি। এটা নিয়ে আমি আতঙ্কিত। তারা ঢিল না ছুড়ে ককটেলও তো ছুড়তে পারত।
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে নির্দেশনায় এমন কাজ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের নির্দেশনা ছাড়া এমন হীনকাজ করার সাহস কারো নাই। মধ্যরাতে একজন নেতার কক্ষে এভাবে ভাঙচুরের ঘটনা রাজনৈতিক সৌন্দর্যের মধ্যে পড়ে না। গতকালকের দু’পক্ষের মারামারির ঘটনায় সভাপতি-সম্পাদক আমার উপরেও দোষ দিয়েছে। কিন্তু এটা ডাহা মিথ্যা কথা।
সভাপতি-সম্পাদকের উপর অভিযোগ দেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলছেন, গত সাত বছরে আমার কক্ষে কেউ ঢিল ছুড়ার সাহস দেখায়নি। বর্তমান কমিটি গঠিত হওয়ার পর বিতর্কিত নেতারা ক্ষমতায় আসায় তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আমরা কাক্সিক্ষত পদবঞ্চিত নেতারা মিলে আন্দোলন করি। হয়তো তার সূত্র ধরে এ হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, ‘কাচ কে ভেঙেছে তার কাছে জানতে চাও। আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কেউ তো আমাকে ইনফর্ম করে নাই। এইমাত্র শুনলাম। ঘটনাটা ঘটার পর দুর্জয় তো বিষয়টা আমাকে জানাতে পারত। আমাদের উপর দোষ চাপালে হবে?’
এ বিষয়ে সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহমুদুল হক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনাটি শোনামাত্র আমি হল সুপারভাইজারকে কক্ষ পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠিয়েছিলাম। প্রক্টরের সাথেও কথা বলেছি। এ ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাদের শনাক্ত করতে পারলে অবস্থা গ্রহণ করা হবে।





