টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি এলাকার কৃষক আজমত আলী। সাত বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন তিনি। তার কাছে শিমের বাজারদর জানতে চাইলে শুনিয়ে দিলেন লালনের গান ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। তার ভাষ্য, গত বছর এই দিনে শিম বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এবার বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকায়। এখন ভালো দাম না পেলে কিছু দিন পর তো শিম গরু ছাগলেও খাবে না। তার অভিযোগ, হরতাল- অবরোধের কারণে সবজির দাম কম দিচ্ছেন পাইকাররা।
আজমত আলীর মতো টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার অনেক সবজি চাষির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। লাভ নয়, খরচ উঠবে কিনা তা ভেবেই মাথায় হাত তাদের।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর ঘাটাইলে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে এক হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এসব সবজির ফলনও হয়েছে ভালো। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় শিম এবং বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে।
সবজি চাষিরা জানান, ফলন ভালো হলেও জুটছে না সবজির ভালো দাম। কারণ হিসেবে তারা দায়ী করলেন চলমান হরতাল-অবরোধকে।
মনতলা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এবার পাঁচ একর জমিতে শিম চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। গত বছর এই দিনে শিমের পাইকারি দর ছিল প্রতি মণ তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। কিন্তু এবার বিক্রি করতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায়।’ পাইকাররা নাকি জানিয়েছেন হরতাল এবং অবরোধের কারণে ঢাকায় সবজি বিক্রি হচ্ছে না।
কৃষক হযরত আলীর ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে সবজি চাষে তাদের অনেক ক্ষতি হবে। হরতাল-অবরোধ আর না দিলে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।
গারোবাজার এলাকার বেগুন চাষি নূরুল ইসলাম বলেন, ‘পাইকারি ৪০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে বেগুন। অর্থাৎ প্রতি কেজি ১০ টাকা। তবুও পাইকাররা নিতে চান না। অনেক বেগুন খেতেই পচে যাচ্ছে।’
উপজেলার সবজির এলাকা হিসেবে খ্যাত সাগরদীঘি, জোরদীঘি, মনতলা, সানবান্ধা, ফুলতলা, গারোবাজার, সিদ্দিখালী ও বাঘারা। মৌসুমি বিভিন্ন ধরনের সবজি ভরে এই এলাকা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৮টি ট্রাক রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
সবজি ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, হরতাল এবং অবরোধের কারণে ঢাকায় বাজারদর কম। তাই স্থানীয় বাজারেও সবজির দাম কমে গেছে।
শামসুল হক নামে আরেক ব্যবসায়ীর দাবি, যানবাহন চলাচলে এখনো কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি তাদের। তবে অবরোধের কারণে গাড়ি ভাড়া বেড়ে গেছে। তাই সবজির দামও কমে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, যাতায়াত এবং পরিবহন ব্যবস্থায় কৃষিপণ্য বাধা পেলে কৃষক অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমার জানা মতে এর পরও পাইকাররা দেশের বিভিন্ন বড় বড় বাজার ধরতে ঝুঁকি নিয়ে সবজি পাঠাচ্ছেন।
ঘাটাইলে পরিবহন সঙ্কটে সবজি নিয়ে বিপাকে কৃষকরা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি এলাকার কৃষক আজমত আলী। সাত বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন তিনি। তার কাছে শিমের বাজারদর জানতে চাইলে শুনিয়ে দিলেন লালনের গান...





