নরসিংদীর শিবপুরে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে সিএনজিচাপায় নিহত হন মিলন (১০) নামের এক শিশু ছেলে।
শনিবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মিলনের লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় সে নিহত হয়।
নিহত মিলন লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলার আরজি শেখ সিন্দুর গ্রামের মানিকের ছেলে। নিহত মিলন তার বাবা-মার সাথে শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নে মানিকদী দড়িপারা গ্রামে এ এম এল ইট ভাটায় বসবাস করত।
নিহতের বাবা মানিক জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার মানিকদী গ্রামের এ এম এল নামক একটি ইটের ভাটায় শ্রমিকের কাজ করে আসছেন তিনি। পার্শবর্তী অন্য একটি ইটের ভাটায় লেবার সরদার হিসেবে কাজ করেন লালমনিরহাটের একই উপজেলার মিজান। মানিকের সাথে মিজানের দাদন ব্যবসা নিয়ে পূর্ব শত্রুতা থাকায় গত মানিককে উঠিয়ে নিতে মানিকদী এ এম এল ইটভাটায় স্থানীয় কিছু ভাড়াটিয়া পাঠায় মিজান। সিএনজি যোগে সন্ত্রাসীরা মানিককে উঠিয়ে নিতে চাইলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ছেলে শিশু মিলন বাবাকে বাঁচাতে আসার চেষ্টা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকে সিএনজির চাকায় পিষ্ট করে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজনকে আটক করে মানিক। পরে মানিকের চিৎকারে ইটের ভাটার লোকজন ছুটে এসে আটক করা আকাশ নামের একজনকে পুলিশে সোপর্দ করে। একইসাথে আহত শিশু মিলনকে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবপুর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মামুনুর রশীদ জানান, এই ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটক দু’জনকে নরসিংদী আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।





