কুমিল্লার চান্দিনায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলাকালে নৌকা ও ঈগল সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে নৌকা সমর্থকদের নয়জন এবং ঈগল সমর্থকদের সাতজন আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে থানায় দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি পাঁচটি অভিযোগ করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে চান্দিনা পৌরসভার ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি এবং বরকইট ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামে পৃথক তিনটি ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন নৌকা সমর্থিত সুমন মিয়া, শাহজাহান, বিল্লাল হোসেন, রাসেল রানা, মো: সোহাগ, মো: জামাল, মো: রনি, সুমন ও কামাল।

অন্যদিকে, ঈগল সমর্থিত আহতরা হলেন আব্দুল মবিন, সালেহ মাহমুদ ভূঁইয়া, রোমেল, জয় দত্ত, মোখলেছুর রহমান, রফিক ও জহির।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক মো: মফিজুল ইসলাম জানান, আমাদের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক উপহার দেয়ার পর থেকেই মুনতাকিম আশরাফ টিটু তার সমর্থকরা ধর্মীয় উস্কানীমূলক কথা বলে আমাদের নৌকার বিরোধীতা করে আসছে।

তিনি আরো বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড চান্দিয়ারা গ্রামে অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের সাথে নৌকা প্রতীকের উঠান বৈঠক করছিলাম। এ সময় আমাদের কাছে সংবাদ আসে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আমাদের নির্বাচনী অফিসে ঢুকে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে টিটু সমর্থিত নেতাকর্মীরা। আহতদের হাসপাতালে নেয়ার পথে ২ নম্বর ওয়ার্ড হারং উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বর্তমান মেয়রের ছেলেরা আবারো হামলা করে এবং সেখানে উপস্থিত নৌকার লোকজনকে মারধর করে। এছাড়াও বরকইট ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুরে আমাদের লোকজনকে মারধর করে কমপক্ষে নয়জন আহত হয়। এ ঘটনায় আহতরা থানায় পৃথক দু’টি অভিযোগ করেছেন।

এদিকে, ঘটনার পরপর উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মুনতাকিম আশরাফ টিটু নৌকা সমর্থিত প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, নৌকা প্রতীকের লোকজন তার নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এতে কমপক্ষে ৯-১০ জন আহত হয়। আমার এক কর্মীর গাড়ি ভাঙচুর করে। এসব ঘটনায় থানায় পৃথকটি তিনটি অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আহাম্মদ সঞ্জুর মোরসেদ জানান, দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।