বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে কেন্দ্রীয় সমঝোতার কারণে আওয়ামী লীগ ছাড় দেয়ায় লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম তালুকদার। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাকে ছাড় দেয়নি। তাই স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা অজয় কুমার সরকার ও খান মোহাম্মাদ সাইফুল্লøাহ আল মেহেদী বাঁধন। এ দুই আওয়ামী লীগ নেতার দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন জাপা প্রার্থী নূরুল ইসলাম। তার সাথে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নেই। তারা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে নিজ দলের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিজয়ী করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাই এ আসনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের লড়াই এখন তুঙ্গে। ফলে লাঙ্গলের ঘুম হারাম করে দিয়েছে কাঁচি আর ট্রাক। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আসনটিতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিএনপি ও জামায়াত নির্বাচন বর্জনের কারণে নির্বাচন নিয়ে অধিকাংশ মানুষের মাঝে আগ্রহ নেই।
জানা গেছে, সমঝোতার মাধ্যমে ছাড় পাওয়া এই আসনে তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম তালুকদার। আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদ্য উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগী সিরাজুল ইসলাম খান রাজুকে প্রত্যাহার করা হলেও এ আসনে জোরেশোরে ভোটের লড়াইয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নেমেছেন তার ছেলে খান মোহাম্মাদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী বাঁধন। এর মধ্যে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের প্রার্র্থী দুর্বল হওয়ায় আসনটি জাপার হাতছাড়া হওয়া অনেকটা নিশ্চিত বলে ধারণা করছেন সাধারণ ভোটাররা। বর্তমানে এই আসনে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অজয় কুমার সরকারকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন প্রার্থীরা। অজয় কাঁচি আর বাঁধন ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে লড়ছেন। এ ছাড়া অন্য প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস স্বাধীন ফিরোজ (ঈগল), বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজাল হোসেন (ফুলকপি), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির আফরিনা পারভীন (একতারা), তৃণমূল বিএনপির অ্যাডভোকেট আব্দুল মোত্তালেব (সোনালি আঁশ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আব্দুল মালেক সরকার (মশাল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের তাজউদ্দীন মণ্ডল (ডাব), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) রফিকুল ইসলাম সরদার (নোঙ্গর), স্বতন্ত্র নজরুল ইসলাম (কেটলি) ও জাকারিয়া হোসেন (আলমিরা)।
বর্তমান সংসদ সদস্য ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, গতবারের মতো দুই উপজেলা আওয়ামী লীগ এবার আমাকে কোনো সহযোগিতা করছেন না। বিশেষ করে আদমদীঘির নেতারা বিপক্ষে গেছেন। আমি চেষ্টা করছি কিন্তু তারা কেউ যোগাযোগ করছেন না। অথচ তাদের দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে নিয়ে আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ কৌশলেও সহযোগিতা করছেন না।
কাঁচি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী অজয় কুমার সরকার বলেন, এরই মধ্যে আমার নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাক সমর্থকরা আমার নেতাকর্মীর ওপর হামলা করেছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
আদমদীঘি থানার ওসি রাজেশ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা অভিযোগটি তদন্ত করব। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বগুড়া-৩ এ লাঙ্গলের পাশে নেই আ’লীগ
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে কেন্দ্রীয় সমঝোতার কারণে আওয়ামী লীগ ছাড় দেয়ায় লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান সংসদ...





