মানিকগঞ্জ তিনটি নির্বাচনী আসনে বিজয়ী তিনজনই জাহিদ। মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিজয়ী সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ, ২ নম্বর আসনে বিজয়ী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিজয়ী স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের একটিতে নৌকা এবং অপর দু’টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বিজয়ীদের সবার নাম জাহিদ হওয়াতে পুরো জেলায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্চে।
বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, এবার জাহিদ নামের বরকত হয়েছে আমার কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, ছেলে হলে নাম রাখবেন জাহিদ। যাতে আগামীতে ছেলে এমপি হতে পারে। কেউ কেউ বলছেন, এটা হটাৎ করেই মিলে গেছে। তবে যে যাই বলুক বিষয়টি নিয়ে হাটে, মাঠে, ঘাটে ও চা স্টলসহ সর্বত্রই হচ্ছে ব্যাপক আলোচনা।
জাহিদ ইসলামিক পরিভাষার একটি নাম। জাহিদ আরবি শব্দ। এ নামের অর্থ হলো চেষ্টাকারী, প্রচেষ্টাকারী, পরিশ্রমকারী বা পরিশ্রমী। অনেকেই বলেছেন জাহিদ নামের যে অর্থ তা বিজয়ী এমপিরা প্রথমেই প্রমাণ করেছেন। কারণ তারা ব্যাপক চেষ্টা করেই বিজয়ী হয়েছেন। এখন দেখার বিষয় তারা আসলেই মানুষের উন্নয়নে, এলাকার উন্নয়নে কি পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা করেন। আমরা চাই তারা তাদের নামে যথাযথ মর্যাদা রাখুক।
শিবালয়-ঘিওর ও দৌলতপুর এ তিন উপজেলা নিয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসন গঠিত। এই আসনে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী বিজয়ী হয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ। যিনি কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে এবার এলাকার মানুষ তাকে কোনো মতবেদের ভিত্তিতে ভোট দেয়নি। বিশেষ করে চরাঞ্চলসহ দৌলতপুর এলাকার ভোটাররা নিজ এলাকায় এমপি পেতে তাকে একচাটিয়া ভোট দিয়েছে। তার মোট প্রাপ্ত ভোট ৮৬ হাজার ৯৪১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, মানিকগঞ্জ সদর আসনে বাড়ি (অন্য এলাকার মানুষ) জোট মনোনীত প্রার্থী জহিরুল আলম রুবেল পান ৩৮ হাজার ৯৪২ ভোট। নির্বাচনী ভোট যুদ্ধে এই আসনে ছিলেন চারজন প্রার্থী।
মানিকগঞ্জ-২ আসন গঠিত হরিরামপুর-সিংগাইর ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে। মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের তিনবারের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন দলের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান জাহিদ আহমেদ। নির্বাচনে ৭৯ হাজার ৫৫৩ ভোট পেয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী মমতাজ বেগম পেয়েছেন ৭০ হাজার ৬৫২ ভোট। এই হিসেবে আট হাজার ৯০১ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এই আসনে প্রার্থী ছিলেন মোট ১০ জন।
অপর দিকে সাটুরিয়া ও সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে মানিকগঞ্জ-৩ আসন। এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় ছিনিয়ে টানা চতুর্থ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকের জাহিদ মালেক। যিনি বর্তমানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এবার মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম খান কামাল পান পাঁচ হাজার ৩৯১ ভোট।
সব মিলিয়ে বিজয়ী জাহিদদের নিয়ে যে আলোচনা চলছে তা হয়ত আরো কয়েকদিন চলতে থাকবে। জেলাবাসীর চাওয়া জাহিদদের কর্ম হোক নামের মতোই।





