বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় গত কয়েক দিনের কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশায় আলুক্ষেতে ব্যাপক হারে ব্লাস্ট ও লেট ব্লাইট রোগ দেখা দিয়েছে। এতে করে এ উপজেলার কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ফলে ওই রোগের কারণে আলুর পাতা কালো ফোসকা ও পচে গিয়ে মরে যাচ্ছে তরতাজা সবুজ গাছ। এ রোগ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এবার তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করছেন আলুচাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, কৃষকরা আলুর ক্ষেতে লেট ব্লাইট বা পাতা মোড়ানো রোগাক্রান্ত আলুক্ষেত সানোক্রনিল, এ্যামেস্টার, কার্বডাইজিং স্প্রে করেছেন। সাত দিন পর স্প্রে করেছেন রিভাস নামে কীটনাশক। এক বিঘা আলুর জমিতে সানোক্রনিল, এ্যামেস্টার, কার্বডাইজিং ওষুধ ও সার এবং শ্রমিক দিয়ে এক হাজার টাকা খচর করে স্প্রে করছেন। ৪ থেকে ৫ দিন স্প্রে করতে হবে। এতে অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা করে খচর বেশি হচ্ছে। তবুও যদি রোগবালাই থেকে রক্ষা করা যায় তাহলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব। তবে অধিকাংশ জমিতে পচন ধরে অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কৃষক।

শেরপুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৭০০ হেক্টর। তবে গতবারের চেয়ে এবার বেশি জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ হয়েছে।
শেরপুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা জিএম মাসুদ জানান, এ ব্যাপারে কৃষকদের সচেতন করার লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ আলুর মড়ক লেট ব্লাইট ও ব্লাস্ট রোগ দমনে কৃষকদের করণীয় শিরোনামে বিভিন্ন পরামর্শ লিখে লিফলেট আকারে তা ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিকট বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। সেইসাথে মাঠপর্যায়ে যোগাযোগও অব্যাহত রেখেছেন।
শেরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন, ঠাণ্ডা আবহাওয়া আলু চাষের জন্য উপকারী, কিন্তু একটানা ঘন কুয়াশা আর শৈত্যপ্রবাহ এ ফসলের জন্য ক্ষতিকর। ঘন কুয়াশা থাকলে আলুক্ষেত ছত্রাক দ্বারা আক্রান্ত হয়।