- ফখরুলের জামিন নামঞ্জুরের বিরুদ্ধে আপিল হয়নি
- ৪ মামলায় খসরুর জামিন শুনানি আজ
২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের আগে ও পরে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী। ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আদালত থেকে জামিন পেয়ে অনেক নেতাকর্মী কারামুক্ত হয়েছেন। তবে বেশির ভাগ মামলায় জামিন পাওয়ার পরও বিএনপির শীর্ষ নেতারাসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মী এখনো কারাবন্দীই আছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিএনপির মহাসমাবেশের পর নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা ১১টি মামলার ১০টিতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিন পেয়েছেন। তবে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় করা অপর একটি মামলায় তার জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল হাইকোর্ট খারিজ করায় এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না।
প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় রমনা থানার মামলায় গত ১০ জানুয়ারি তার জামিন আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। এরপর ১০ দিন পার হলেও ওই আদেশের বিরুদ্ধে এখনো আপিল আবেদন করা হয়নি। যদিও এই মামলায় জামিন জামিন পেলে তার মুক্তিতে বাধা থাকবে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। অবশ্য আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে করা চার মামলার জামিন আবেদনের শুনানি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে। ওই মামলাগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসে তা দেখে মির্জা ফখরুলের জামিন আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এ বিষয়ে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সম্প্রতি বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী এখনো কারাগারে আছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মামলায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা না করে আইনি কাঠামোর মধ্যে বিচার করলে বিএনপি নেতাকর্মীরা দ্রুত ছাড়া পাবেন। এ দিকে মির্জা ফখরুলের আইনজীবী সগীর হোসেন লিওন জানান, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত আপিল করার সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত ১০ জানুয়ারি রমনা ও পল্টন থানার নয় মামলায় ফখরুলকে জামিন দেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিন ১০ হাজার টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এরপর গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন থানায় নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা অপর একটি মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম জামিন পান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গত ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুলশানের বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দিনই প্রধান বিচারপতির বাসায় হামলার ঘটনায় রমনা থানায় দায়ের করা মামলায় রাত ৮টার দিকে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
৪ মামলায় আমীর খসরুর জামিন শুনানি আজ : রাজধানীর পল্টন ও রমনা থানায় নাশকতার অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিন আবেদনের শুনানি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালতে রোববার দুপুরে আমীর খসরুর জামিন আবেদনের শুনানি হবে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। এই চার মামলায় তিনি জামিন পেলে মুক্তিতে বাধা থাকবে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আমীর খসরুর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে করা চার মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি হবে। এর আগে তিনি আরো ছয়টি মামলায় জামিন পেয়েছেন। এই চার মামলায় জামিন পেলে তার মুক্তিতে বাধা থাকবে না।
গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর পল্টন ও রমনা থানায় নাশকতার অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় আমীর খসরুর জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে চার মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া অপর চার মামলার নথি না থাকায় রোববার ওই মামলাগুলোর জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে আমীর খসরুর পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী ও অ্যাডভোকেট সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ।
গত ১৭ জানুয়ারি এসব মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোসহ জামিন চেয়ে শুনানি আবেদন তার আইনজীবীরা। শুনানি নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেনের আদালত আসামির উপস্থিতিতে গ্রেফতার ও জামিন শুনানির জন্য ১৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
গত ৮ জানুয়ারি রাজধানীর রমনা ও পল্টন থানায় দায়ের করা নাশকতার ৮ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরুর জামিন আবেদন গ্রহণ করে তা আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ১৫ দিনের মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো: আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ আমীর খসরুর পক্ষে এক রিট আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।
গত ২ নভেম্বর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অপর দিকে গত পাঁচ মাসে মোট ১১৩টি মামলায় সর্বমোট ১৭৫৩ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর (অব:) মো: হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবীবুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মায়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব উন নবী খান, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল আলম, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, বর্তমান সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনামুল হক, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর। এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল কাদের ভূঁইয়া, রাজীব আহসান, হাবিবুর রশীদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ রয়েছেন দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায়।





