অবশেষে নিখোঁজের ছয়দিন পর উদ্ধার হলো ডুবে যাওয়া ফেরি রজনীগন্ধার সহাকরী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবিরের লাশ।
সোমবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটের ১৩ কিলোমিটার ভাটিতে পার্শ্ববর্তী হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর বাহাদুরপুর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
মানিকগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বাহাদুরপুর এলাকায় চলাচলকারী বাল্কগেট চালকেরা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখে বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে ফোন দেয় এবং লাশের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্পিডবোর্ড নিয়ে লাশের কাছে যায়। এরপর লাশের ছবি তুলে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয় এবং ডুবে ফেরি রজনীগন্ধার সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবিরের লাশ বলে বিআইডব্লিউটিসি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরো জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। পরে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহতের পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি জানান।
এ দিকে বাংলাদেশ অভ্যান্তরীণ নৌপরিবাহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম শাহ মোহাম্মদ খালেদ নেওয়াজ জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা, রুস্তম ও প্রত্যয় মিলে গত ছয়দিনের ডুবে যাওয়া নয়টি যানবাহনের মধ্যে পাঁচটি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ফেরি রজনীগন্ধা ও ডুবে যাওয়া আরো চারটি যানবাহন উদ্ধারে কাজ চলছে। সকলের সার্বিক সহযোগীতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ফেরি ও যানবাহন উদ্ধার করতে সক্ষম হব। তীব্র শীতের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে গত বুধবার দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরিটি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরি ঘাটের অদূরে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ছোট-বড় নয়টি যানবাহন এবং চালক-হেলপারসহ ২১ জন ব্যক্তিকে নিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ফেরিটির সহকারী ইঞ্জিন মাস্টার হুমায়ন কবির নিখোঁজ হয়।





