গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রভাষক রেজা সাইদ আল মামুন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ছেলে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম নাসিম জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহত মামুনের লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

রোববার বিকেলে কালিয়াকৈর উপজেলার ঢালজোড়া সাজনধারা এলাকায় জমি সংক্রান্ত এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে ক‌লেজ শিক্ষক‌কে পি‌টি‌য়ে হত‌্যার অভি‌যোগ উঠে তার বড় ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে।

নিহত শিক্ষক ‌রেজা সাঈদ আল মামুন চন্দ্রা জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারী ক‌লে‌জের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক। তিনি উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের সাজনধারা গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছে‌লে।

ঢালজোড়া ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হাসেম মেম্বার ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান জমি সংক্রান্ত এবং পারিবারিক বিরোধের জেড়েই প্রফেসর রেজা সাঈদ আল মামুনকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর রেজা সাঈদ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা লতিফপুর টিএনটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গ্রামে তার অবর্তমানে রেজা সাইদ আল মামুনের পৈতৃক সম্পত্তি তার বড় ভাই মজিবর রহমান ভোগ দখল করে আসছিল। দুই বছর আগে নিহত রেজা সাঈদ আল মামুন গ্রামের বাড়ি সাজনধারা এলাকায় এসে তার পৈতৃক সম্পত্তি নিজেই ভোগ দখলের উদ্যোগ নেয়।

পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের মাঝে কোন্দল দেখা দেয়। একাধিকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা চেষ্টা করেও নিহত রেজা সাঈদ আল মামুন ব্যর্থ হয়। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রফেসর রেজা সাঈদ আল মামুনকে একাধিকবার তার বড় ভাই মজিবুর রহমান, ভাতিজা সুমন ও সেজান হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার বিকেল ৩টায় প্রফেসর সাইদ আল মামুন কলেজের শিক্ষকতা শেষে বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া করে নিজের জমিতে চাষাবাদের জন্য গেলে পিছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায় নিহতের বড় ভাই মুজিবুর রহমান ভাতিজা সুমন ও সেজান। পরে পরিবারের লোকজন প্রফেসর রেজা সাইদ আল মামুনকে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথেই তিনি মারা যান।

নিহত রেজার সাঈদ আল মামুনের মেয়ে সুমাইয়া শাহরিন সুচি জানান, চাচা মজিবুর রহমান এবং তার ছেলে সুমন ও সেজান জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দীর্ঘদিন যাবত প্রফেসর রেজা সাঈদ আল মামুনকে নানাভাবে হয়রানি এবং হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে রোববার বিকেলে ফসলের মাঠে কাজ করা অবস্থায় পিটিয়ে হত্যা করে।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনার স্থলে এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নিহত প্রফেসর রেজা সাঈদ আল মামুনের লাশ উদ্ধার করেন।

কালিয়াকৈর থানার তদন্ত ওসি সাব্বির রহমান ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রফেসর রেজা সাঈদ আল মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।