চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তাল বেগুন চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। দিন দিন চাষের পরিধি বাড়াচ্ছেন তারা। এখানকার উৎপাদিত বেগুন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বছরে অন্যান্য সবজি চাষ করলেও শীত মৌসুমে আধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল ‘তাল বেগুন’ চাষ করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় এবার ১২০ হেক্টর জমিতে বেগুনের আবাদ হয়েছে। তার মধ্যে ৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে তাল বেগুন। উপজেলার জোরারগঞ্জ, দুর্গাপুর, মিরসরাই সদর ও খৈয়াছড়া ইউনিয়নে বেশি বেগুন আবাদ হয়েছে। গত এক মাস ধরে বাজারে বিক্রি করে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।
সরেজমিন দেখা গেছে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাজীশ্বরাই ও খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকায় কেউবা ক্ষেতে পরিচর্যা করছেন, কেউবা বেগুন তুলছেন, আবার কেউবা বাজারে নিতে টুকরিতে ভরছেন। পূর্ব খৈয়াছড়া এলাকার কৃষক শাহ এমরান সেলিম বলেন, এবার ৫০ শতক জমিতে তাল বেগুন আবাদে আমার ৪৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩২ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। পাইকারিভাবে প্রতি কেজি বেগুন ৪৫-৪৭ টাকা দরে বিক্রি করছি। আরো প্রায় দুই মাস বেগুন বিক্রি করতে পারব। এতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার বেগুন বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরো বলেন, আমি গত ছয়-সাত বছর ধরে তাল বেগুন চাষ করছি এবং বছরের অন্য সময় বরবটি, আখ, করলা, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে থাকি।
আরেক কৃষক নুরুল মোস্তফা বলেন, ৭২ শতক জমিতে বেগুন চাষে আমার প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতঃমধ্যে ৮০ হাজার টাকার বেগুন বিক্রি করেছি। জমিতে এসে পাইকাররা কিনে নিয়ে যায়। আবহাওয়া ও দাম ঠিক থাকলে তিন লাখ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারব।
তিনি আরো বলেন, কৃষি কাজের আয় দিয়ে পড়াশোনা করে দুই ছেলে এখন চাকরি করছে। এখনো পড়াশোনা করছে আরো দুই ছেলে। পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিতে গিয়ে কিছু জায়গা বিক্রি করতে হয়েছিল। কৃষি খাতের আয় দিয়ে গত কয়েক বছরে কিছু জমিও কিনেছি।
বেগুন চাষে কোনো রোগ বালাই বা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়- এর জবাবে কৃষকরা বলেন, তাল বেগুনে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের আক্রমণ হয়। যার জন্য প্রতিদিন গাছের পরিচর্যা ও সপ্তাহে তিন-চার দিন কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়।
তাল বেগুন কিনতে আসা পাইকার জানে আলম সুমন বলেন, আমরা বেগুন কিনতে আসার আগের দিন ফোনে কৃষককে দাম জানিয়ে দিই। পরদিন এসে ওজন করে বাজারজাত করে বিভিন্ন আড়তে পাঠিয়ে দিই।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, তাল বেগুন লাভজনক হওয়ায় মিরসরাইয়ে দিন দিন আবাদ বাড়ছে। প্রতিটি বেগুনের ওজন ৪০০ থেকে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। স্থানীয় ও বাইরের বাজারে এ বেগুনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা সারা বছরই ভালো দাম পান। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। আমি নিজে মাঠ পরিদর্শন করে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এ ছাড়া পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য ব্লকের দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তাদের তাগিদ দেয়া হয়েছে।





