পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এ.কে শামসুদ্দিন আবুকে অনাস্থা দিয়েছে সকল মেম্বাররা।
বুধবার দুপুরে রাঙ্গাবালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অনাস্থার বিষয়টি প্রকাশ করেন ইউপি সদস্যরা। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার জালাল ডাক্তার। এছাড়া এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের ১২ জন সদস্যের প্রত্যেকেই উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে পরিষদের সকল সদস্যরা স্বাক্ষর করে চেয়ারম্যান আবু শামসুদ্দিনের অনাস্থার জন্য পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।
লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগ উল্লেখ করা হয়, চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান এ কে শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাত ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সদস্যারা মোট ১২ জন অনাস্থা প্রকাশ করেন যে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন পরিষদের সব উন্নয়নমূলক কাজ কাবিখা, কাবিটা, টি আর, এল জি এসপি, এডিপি, মৎস, চল্লিশ দিন এবং উন্নয়নমূলক তহবিলের সকল কাজকর্ম চেয়ারম্যান একা করেন। ইউপি সদস্য দেন নামমাত্র সিপিসি করা হয়। কিন্তু কোনো কিছু আলোচনা না করে আগাম স্বাক্ষর ও রেজুলেশন করেন। ইউনিয়ন পরিষদের রেজুলেশন কোনো সদস্য বা সদস্যদেরকে না পড়াইয়া শুধুমাত্র সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়া হয়। বিগত এক বছর যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদের কোনো সদস্য বা সদস্যদেরকে সম্মানি ভাতা দেয়া হয়নি। জন্ম নিবন্ধন এবং টেক্স-এর কোনো হিসাব নিকাশ না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন।
লিখিত বক্তব্য ও অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো: বেলায়েত হোসেনের কাছ থেকে সারের ডিলার ও টিউবওয়েল বাবদ দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো: বেল্লালের কাছ থেকে টিউবওয়েল বাবদ দুই লাখ টাকা, ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলী আক্কাসের কাছ থেকে মুজিব বর্ষের ঘর ও টিউবওয়েল বাবদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো: আলমগীর হোসেনের কাছ থেকে মুজিব বর্ষের ঘর বাবদ ৬০ হাজার টাকা নেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের অনেক অনিয়ম জন-সাধারণের মাঝে পরিলক্ষিত হয়। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ‘অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে চেয়ারম্যানের অনাস্থা চেয়ে সকল ইউপি সদস্যরা স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয় সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান তিনি।’





