পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ঢেমশি চাষ। এক সময় এ দিকে ঢেমশি চাষ ছিল সবার ঘরে ঘরে। বর্তমান সময়ে ঢেমশি চাষ স্বপ্নের মতো। বর্তমান প্রজন্ম এই ফসল চিনেই না। ঢেমশি চাষে লাভ কম থাকায় অন্য ফসলের দিকে ঝুকছে কৃষক। বর্তমানে আলু, ভুট্টা, বাদাম চাষে বেশি লাভ তাই তারা ঢেমশি চাষ করে না। দেবীগঞ্জ উপজেলায় এক সময় প্রচুর পরিমাণে ঢেমশি চাষ হতো।

ঢেমশি স্বল্প জীবনকালের একটি বিশেষ ফসল। বছরের যে সময়ে জমি পতিত থাকে বা ধান আবাদ করা সম্ভব হয় না সেসব জমিতে সাথী ফসল হিসেবেও ঢেমশি আবাদ করা যায়। আবার যেখানে ফসল হয় না সেখানেও এটি সহজে চাষাবাদ করা সম্ভব। এর জন্য এক দিকে যেমন রাসায়নিক সার দরকার হয় না তেমনি পোকামাকড় খুব একটা আক্রমণ করে না বলে বালাইনাশকেরও খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। চর এলাকা মাটি এবং বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো আবাদ হয় এবং নিজেই আগাছা নষ্ট করে বলে আলাদা করে আগাছা দমন করতে হয় না ঢেমশির জন্য।

ঢেমশির বীজ বপনের সময় হলো কার্তিক অগ্রহায়ণ মাস এবং জৈবসার ব্যবহার করলে ফলন কিছুটা ভালো হতে পারে। প্রতি একর জমিতে চাষের জন্য বারো কেজি বীজের দরকার হয় এবং সাধারণত একর প্রতি এক টন পর্যন্ত উৎপাদন হতে পারে। আবার একই সময়ে এর ফুল থেকে মধু উৎপাদন সম্ভব এবং সেক্ষেত্রে প্রায় ১২০ কেজি পর্যন্ত মধু প্রতি একরে পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, ফুল আসার আগ পর্যন্ত ঢেমশি পুষ্টিকর শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। সার কীটনাশক লাগে না বলে এর প্রতি নীতি নির্ধারকদের আগ্রহ কম থাকে। আর এদেশে খাদ্যের ক্ষেত্রে পুষ্টির বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। ফলে ঢেমশির মতো ফসলের দিকেও কর্তৃপক্ষের আগ্রহ কম।

জহির উদ্দিন বলছেন, ‘তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢেমশির চাষাবাদ করছেন। এটি চাষ খুবই সহজ ও খরচও খুব কম। জমি চাষ করে বীজ বুনলেই ফসল পাওয়া যায়। খুব বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।

দেবীগঞ্জ উপজেলার কৃষি অফিসার নাঈম মোরশেদ বলেন, ‘দেবীগঞ্জ উপজেলায় এ বছর এক একর জমিতে ঢেমশি চাষ হয়েছে। ঢেমশি চাষে তেমন কোনো খরচ নাই।’