ভোলার চরফ্যাসন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মোর্শেদ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে অন্যের ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ভুক্তভোগীদের ফসলি জমির পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
কৃষি জমি থেকে মাটি উত্তোলন বন্ধে জমির মালিক পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাজী মঞ্জুর হোসেন পৌর মেয়রসহ ছয় প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে গত ৪ ফেব্রুয়ারি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভোলা জেলা প্রশাসক বরাবরে। তবে পৌর মেয়র এস এম মোর্শেদের দাবি- আমি কিছুই জানি না। ডিসির (জেলা প্রশাসক) কাছে অভিযোগ দিলে তিনি এসে তদন্ত করে দেখুক।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরফ্যাশন পৌর শহরের দক্ষিণ ফ্যাশন গ্রামে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফসলি জমির মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি করছেন।
কিন্তু ওই দক্ষিণ ফ্যাসন মৌজার ২৭ একর ৭৪ শতাংশ জমি নিয়ে চরফ্যাশন যুগ্ম জেলা দ্বিতীয় আদালতে ২০১৪ সালে বাদি হয়ে দেওয়ানি মামলা করেন ভুক্তভোগী কাজী মঞ্জুর। পরবর্তীতে ওই মামলায় বাদি হাইকোর্টে আপিল জুরিডিকশনে মোকদ্দমা দায়ের করলে ২০১৬ সালের ২১ মার্চ নিম্ন আদালতের বিচার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
তার পরও ক্ষমতার প্রভাবে আদালতের ওই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পৌর মেয়র মোর্শেদ, কাউন্সিলর মফিজুল ইসলাম, সাদেক, সাজ্জাদ হাওলাদার, আলমগীর বাতান এবং কাফুসহ বেশ কয়েকজন প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর বানিয়ে ৫০-৬০ ফুট গভীর থেকে বালু উত্তোলনের কারণে আশপাশের তিন ফসলের জমিগুলো ডোবায় পরিণত হচ্ছে। ভেঙে দেবে পড়ছে চারপাশের মাটি।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (উপ-সচিব) ইকবাল হোসেন বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটা পরিবেশ আইন অনুযায়ী অপরাধ। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।