চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত শাক-সবজি সংরক্ষণ করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও হিমাগার স্থাপনে এগিয়ে আসেনি সরকারি, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান। কৃষিসমৃদ্ধ এ উপজেলায় হিমাগার নির্মাণ এখন কৃষকদের প্রাণের দাবি।
মিরসরাই উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ। যেখান থেকে দেশের যেকোনো স্থানে বহন করা যায় যেকোনো কৃষিপণ্য। বিশেষ করে উন্নত জাতের টমেটো, আলু, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন এই অঞ্চলের সেরা মৌসুমি সবজি। এখানকার শিমের বিচি বিদেশেও বেশ সমাদৃত। কিন্তু এসব ফসল সংরক্ষণে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও পরও গড়ে ওঠেনি একটি হিমাগার। মিরসরাইয়ে এত বেশি মৌসুমি সবজি উৎপাদিত হয় যে এই অঞ্চলে একটি হিমাগার স্থাপিত হলেও চট্টগ্রামের সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। উপজেলায় কোনো হিমাগার না থাকায় কৃষকরা ভরা মৌসুমে কম মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। হিমাগারের অভাবে কৃষকেরা তা সংরক্ষণ করতে পারছে না। তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের কাছে হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের উত্তর ওয়াহেদপুর গ্রামের কৃষক ছানাউল্লাহ জানান, অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে শালগম ফলানো যায় বিধায় প্রায় এক একর জমিতে চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এনে উৎপাদন খরচও উঠাতে কষ্ট হচ্ছে। সোনাপাহাড় এলাকার টমেটো চাষি আলতাফ হোসেন বলেন, অনেক দিন ধরেই শুনে আসছি একটা হিমাগার হবে আমাদের আর সস্তায় বিক্রি করতে হবে না। কিন্তু কখন হবে বুঝতেছি না।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাইয়ে হিমাগার খুবই প্রয়োজন। একটি হিমাগার কোনোভাবে গড়ে উঠলে এলাকার সবার জন্যই মঙ্গল।
এ বিষয়ে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেল বলেন, কৃষিপণ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে হিমাগার নির্মাণের বিষয়টি আমার নির্বাচনী ইশতেহারে রেখেছি। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।





