বরিশালের গৌরনদীতে গোল্ডেন আট পেয়ারা ছাড়াও চাষী মো.মজিবুর রহমান বিপ্লবের, ৪০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে টমেটো, ক্ষিরাই, পেঁপে, বেগুন, লেবু ও সুগন্ধি বুম্বাই মরিচ চাষ করছেন। পেয়ারাবাগানটি উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের মাহিলাড়া গ্রামে।
মজিবুর ১৬ বছর সৌদি প্রবাসে জীবনযাপন করেন। ২০১৯ সালে অল্প পরিসরে পেয়ারার চারা রোপন করেন। তখনই তিনি কৃষির প্রতি আকৃষ্ট হন। গ্রামে বাবার জমিসহ অপরের জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন চাষবাস। প্রচলিত ফসলের বাইরে বিভিন্ন ফল চাষ শুরু করে তিনি সফলতাও পেয়েছেন। এখন শুধু পেয়ারা বিক্রি করেই বছরে লাখ টাকার ওপরে আয় করছেন তিনি।
মজিবুর রহমান বিপ্লব গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের মাহিলাড়া গ্রামের আবু তালেব হাওলাদারের ছেলে।
জানা গেছে, শুরুতে মজিবুর মাছ ও সবজি চাষ করতেন। কয়েক বছর পর তার মনে হয়, লাভজনক ফল চাষের কথা। ইউটিউবে দেখতে পান পেয়ারা চাষ করে চাষিরা অনেক লাভবান হচ্ছেন। সেখান থেকে পেয়ারা চাষের প্রতি তিনি উদ্বুদ্ধ হন। পরে ২০২১ সালে বরিশাল থেকে মাল্টা ৩৩০ চারা আনেন তিনি। ৪০ শতাংশ জমিতে এই চারা দিয়ে মাল্টা চাষ করেন। কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে সফল হতে পারেননি। পরে ওই জমিতে ২০২২ সালে বরিশাল থেকে গোল্ডেন আট পেয়ারার ৩৩০ পিচ, ৩৫০ পিচ বুম্বাই মরিচ, ১৮০০ পিচ ক্ষিরাই, ১২০ লেবু, ১২০ পিচ বেগুন, ৮০০ পিচ পেঁপে ও ৬০০ পিচ টমেটো চারা রোপন করেন। এক জমিতেই চাষাবাদ করেন সাত ধরনের ফসল। তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাধ্যমে সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন পেয়ারা চাষের কলাকৌশল।
সাত-আট মাস পরই ফল আসতে শুরু করে। দেড় বছরের মাথায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ৩২০টি পেয়ারা গাছ ফল দিচ্ছে। প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে দেড় মণ পেয়ারা বিক্রি করতে পারেন।
সরেজমিনে মাহিলাড়া গ্রামে মজিবুর রহমান বিপ্লবের পেয়ারা বাগানে দেখা যায়, পুরো বাগানে গাছ ভর্তি থরে থরে পেয়ারা ধরে আছে। শ্রমিকেরা নতুন পেয়ারার গুটিগুলো পলিথিন ব্যাগে ভরে দিচ্ছেন।
তারা জানান, ‘পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা এবং কীটনাশক যাতে ফলের গায়ে না লাগে, সেজন্য এই পলিথিন ব্যাগে পেয়ারার গুটি ভরে দেয়া হচ্ছে। এতে পেয়ারা নিরাপদে থাকবে। পাশাপাশি রঙও হবে আকর্ষণীয়।’
কৃষক মজিবুর রহমান বিপ্লব জানান, ‘বছরে এখন লাখ টাকার মতো পেয়ারা বিক্রি করতে পারেন। বরিশাল জেলাসহ আশপাশের পাইকারীরা বাগানে এসে পেয়ারা নিয়ে যান।’
তিনি আরো বলেন, ‘পেয়ারা গাছের মধ্যে শীতকালীন সবজী চাষ করেছি। আমার এ বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকাসহ আশপাশ ১০ থেকে ১২ বেকার যুবক।’
পেয়ারা চাষে মজিবুর রহমানের সফলতা দেখে এ অঞ্চলের অনেকেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেয়ারা চাষ শুরু করেছেন।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিঠুন বণিক বলেন, ‘নতুন চাষি তৈরি করতে কাজ করছে কৃষি অধিদফতর। এ উপজেলার পাঁচ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ করা হয়েছে। শুধু বিপ্লবই নন মাঠ পর্যায়ের যেকোনো চাষিকে আমরা সাধ্যমতো সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি।‘
এ বিষয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, ‘সফল কৃষক মজিবুর রহমান বিপ্লব। আমার পরিষদ থেকে আমি সকল ধরনের সহযোগিতা করেছি।’
গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: সেকেন্দার শেখ জানান, ‘মাহিলাড়ার মাটির গুণাগুণের কারণে পেয়ারা অনেক সুমিষ্ট ও আকর্ষণীয় হচ্ছে। তাই সারাদেশে এর চাহিদা বাড়ছে। তার সফলতা দেখে এখন আরো অনেকেই পেয়ারা চাষে ঝুঁকছেন।’





