রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা বরই চাষে সফলতার মুখ দেখছেন। তবে সম্ভাবনা থাকা সত্বেও এ জেলায় ব্যাপকভাবে গড়ে ওঠেনি। তবে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা কিছু বরই বাগান দেখা যায়।

রাজবাড়ী জেলা সদর, গোয়ালন্দ, বালিয়াকান্দি, পাংশা ও কালুখালি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বরই বাগানের চারদিকে তাকালে শুধু বরই আর বরই। চার থেকে ছয় ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ছোট থেকে বড় প্রতিটি গাছে বরইয়ের ভারে ডাল নুইয়ে পড়েছে। লাল আপেলের রঙয়ের আপেল কুল ও সাদা সবুজ মিশ্রিত বাউ কুল-সহ নানা জাতের পরিপক্ব বরইগুলো হালকা টক-মিষ্টিতে স্বাদে ভরপুর।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে ইদ্রিস মেম্বর ৪৫ শতক জমিতে একটি কুল বাগান করেছেন। পরিপক্ক বরই সংগ্রহকালে কথা হয় তার বড় ভাই সিদ্দিক খান ও স্ত্রী আন্না বেগমের সাথে।

তারা জানান, ‘অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় বরই চাষও ভালো লাভজনক। এই বাগানে প্রতি শতাংশে একটি করে বরই গাছ রোপন করা হয়েছে। রোপনের পর প্রতিটি গাছে প্রায় এক বছর পর পরিপক্ক বরই পাওয়া যায়। তিন বছর যাবত তারা ওই বাগান করেছেন। প্রতিটি চারা ক্রয় থেকে শুরু করে সেচ, সার, কীটনাশক স্পে, নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী ও শ্রমিক ব্যয়সহ পরিপক্ক বরই পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি বরই গাছে গড়ে ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। তবে রোপনের প্রথম বছর এ খরচ লাগলেও পরের বছর থেকে খরচ কম লাগে। পরে শুধু পরিচর্যা খরচ লাগে। প্রতি সিজনে গাছ প্রতি দেড় থেকে দুই মণের অধিক বরই পাওয়া যায়। প্রতি মণ বরই তিন থেকে সাড়ে ৩০০০ টাকায় বিক্রি হয়।’

তারা আরো জানান, ‘প্রতি মৌসুমে বরই সংগ্রহ শেষে গাছের ডালপালা কেটে দিতে হয়। কাটা ডালপালা জ্বালানির চাহিদা মিটায়। এরপর গাছের গোড়ার চারদিকে কিছুটা মাটি হালকা খুঁচিয়ে গোবরের সার দিয়ে সেচ দিতে হয়। অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে আবার ফুল ও আসে। এরপর মাস দেড়েক পরে পরিপক্ক বরই বাজারে বিক্রি করা যায়।’

অন্যান্য কৃষকরা বলেন, ‘এখানকার আবহাওয়া ভালো থাকায় ও সঠিক পরির্চযা করার কারণে কুলের ভালো ফলন হয়েছে। প্রত্যেকটি গাছে কুলের ভারে অধিকাংশ ডালগুলো শুয়ে পড়েছে। এ চাষে ঝুঁকি ও খরচ কম এবং লাভ বেশি। মেধা শ্রম ও স্বল্প পুঁজিতে বরই চাষ করে বেকারত্ব ঘোচানো সম্ভব।’

বরই চাষে উৎসাহিত করে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: খোকন উজ্জামান বলেন, ‘অন্যান্য ফলের তুলনায় বরই চাষ লাভজনক। বিভিন্ন এলাকায় বরই চাষ করে অনেকে লাভবান হচ্ছেন। তবে গোয়ালন্দে এখনো বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ হচ্ছে না।’

কেউ বাণিজ্যিকভাবে করতে চাইলে অবশ্যই সার্বিক সহায়তা করা হবে বলেও জানান তিনি।