পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গয়েশবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক আজগার আলীর ছেলে আমানুল্লাহ হোসাইন। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ তার। পিএসসি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। গত বছর মেডিক্যাল ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ভর্তি হতে পারেননি। লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সুযোগ পেয়েছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগে। কিন্তু মনে প্রবল ইচ্ছা ছিল, মেডিক্যালে পড়ালেখা করে একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার। আর সে ইচ্ছে নিয়ে দ্বিতীয়বার মেডিক্যাল ভর্তি পরিক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন আমানুল্লাহ হোসাইন। এবার তাকে আটকানো যায়নি, চলতি বছর মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। ৭১.৫ নিয়ে মেধা তালিকায় ২৫৯৩তম স্থান করে নিয়েছেন। তার স্বপ্ন একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজেক তৈরি করে ভ্যানচালক বাবাকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তুলবেন। তবে মেডিক্যালে পড়াশোনা চালিয়ে নেবেন কিভাবে এই চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।

আমানুল্লাহর বাবা আজগর আলী বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার ছেলে লেখাপড়ায় ভালো ছিল। ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে বাবা হিসেবে সহায় সম্বল যা ছিল বিক্রি করে দিয়েছি। যখন সুস্থ ছিলাম তখন চিন্তা করতাম না। এখন কাজ করতে পারি না একবেলা ভ্যান চালালে আরেক বেলায় বিছানায় কাতরাতে হয়। এই অবস্থায় ছেলের মেডিক্যালে পড়ানোর চিন্তায় তিনি আরো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্ত্রীর নাকফুল আর ছোট মেয়ের পায়ের নুপুর বিক্রির টাকা সাথে প্রতিবেশীর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে মেডিক্যালে ভর্তি করিয়েছেন। এখন মেডিক্যালের পড়ালেখার খরচ কিভাবে যোগাবেন এই চিন্তায় তিনি আরো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন।

আমানুল্লাহ জানান, তার বাবা অসুস্থ হওয়ার পর অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন। সবাই বলেছে তিনি যে রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তার কোনো স্থায়ী চিকিৎসা নেই। এই কথা শুনে তার মনের মধ্যে জেদ চেপে বসেছে তিনি চিকিৎসক হয়ে তার বাবাকে সুস্থ করে তুলবেন। একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি গরিব মানুষকে সেবা দিতে চান।

তিনি আরো জানান, এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার আব্দুর রশিদ স্যার তার বাবাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতেন। সাঁথিয়ার ডাক্তার রওশন আলী স্যারের দেয়া বৃত্তির টাকা মোবাইল ফোন কিনে সেটি দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতেন। এছাড়া তার স্কুলের শিক্ষকেরা সবসময় তাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিতেন।

সাঁথিয়া ধুলাউরি উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মো: আব্দুল বাতেন জানান, আমানুল্লাহ তার বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র হিসেবে মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ করে নিয়েছেন- এটা শুনে তার বুক গর্বে ভরে উঠেছে। সে ক্লাসে অভাব অনটনের মধ্যে থেকেও প্রবল ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

আমানুল্লাহ হোসাইনকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে- বিকাশ ০১৫৭৬৬২৩০৩৭ (পারসোনাল)।