চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অধিকাংশ মিল-কলকারখানা, বিপণি বিতান ও আবাসিক ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। মাঝে মাঝে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও সেন্ট্রাল অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখেনি অনেকেই। সম্প্রতি রাজধানীর বেইলী রোডে ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে এস আলম গ্রুপের চিনির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা খুব শিগগিরই চালু শিল্পকারখানাগুলোর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা তদারকি করতে মাঠে নামবেন।
জানা গেছে, গত বছর মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা জেরিন প্যারাগন গ্রুপের প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ফিড মিলকে দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস অধিদফতর কর্তৃক প্রেরিত সেন্ট্রাল অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার সব শর্ত পূরণের নির্দেশ দেন।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন বিপণি বিতান ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটগুলোতে নেই নিজস্ব কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। বাণিজ্যিক ভবনে গড়ে তোলা হয়েছে হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। যেখানে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে খাবার রান্না করা হচ্ছে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলে পুরো বিপণি বিতানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল, পেট্রল পাম্পে ফায়ার এক্সটিংসার লাগানো থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ। উপজেলাতে কী পরিমাণ আবাসিক ভবন ও বিপণি বিতান অগ্নিঝুঁকিতে আছে তারও নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে।
মিরসরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন সূত্র জানায়, বারইয়ারহাট পৌরসভার অনেক মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ। পৌরসভার ওই অংশে অগ্নিনির্বাপণের জন্য কোনো পুকুর বা পানির উৎস না থাকাতে সেগুলোতে আগুন লাগলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কিংবা রেলপথের যেকোনো একটি পথ বন্ধ করে দিতে হবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রত্যেকটি বাণিজ্যিক ভবনে নিজস্ব ফায়ার সেফটি প্ল্যান থাকার কথা থাকলেও বারইয়ারহাট পৌর এলাকার ভবনগুলোতে সে ব্যবস্থা নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু ব্যবসায়ী জানান, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হোটেল-সহ বিভিন্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করার ফলে অনেকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মিরসরাইয়ে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন থাকার পরও লাইসেন্সের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের আগ্রাবাদ অফিস থেকে। সেখানে লাইসেন্স আবেদনের পর তদন্তের নামে অতিরিক্ত টাকার জন্য হয়রানি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন মিরসরাইয়ের স্টেশন কর্মকর্তা ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বলেন, গত বছর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার সেফটি না থাকায় জরিমানা করা এবং ফায়ার সেফটি রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, লাইসেন্সের আবেদনের প্রাথমিক কাজ আমরাই করি। পরবর্তী সময়ে মূল কাজ আমাদের আগ্রাবাদ অফিসের ইন্সপেক্টররা করেন। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে হয়রানির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
মিরসরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, মিলকারখানা, বিপণি বিতান ও আবাসিক ভবনে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা খুবই জরুরি। আমরা অনেক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছি। খুব শিগগিরই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থার বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।





