বছরের অন্য সময়ের তুলনায় তিন গুণ বেশি দামে লেবু বিক্রি করতে পেরে খুশি চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের লেবুচাষিরা। পবিত্র রমজান মাস ঘিরে লেবুর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়ে গেছে। তবে চাষিদের কাছ থেকে পাইকারিভাবে কিনে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। ভোক্তারাও বাধ্য হয়ে তিন-চার গুণ দামে লেবু ক্রয় করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ২৬ হেক্টর চাষ করা হয়েছে করেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়ে। উপজেলা কৃষি অফিসের তদারকি ও কৃষকদের আগ্রহে এই উপজেলায় ধীরে ধীরে লেবু চাষ বাড়ছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিন করেরহাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, করেরহাট ইউনিয়নের কালাপানি, নয়টিলা, সাইবেনিখীল, কয়লা, বদ্ধভবানী, ভাঙ্গা টাওয়ার, শহীদপুর, ইসলামাবাদ এলাকায় রাস্তার ধারে পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি লেবু বাগান। পাহাড়ি বাগান থেকে লেবু তুলে বস্তাভর্তি করে বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের পাশে এনে রাখছেন বাগান মালিকরা। সেখান থেকে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে লেবু পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ থেকে ৩০ ট্রাক লেবু বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। অনেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের পেছনে বস্তা বহন করে লেবু বাজারে নিয়ে যাচ্ছে। লেবু বেচাকেনার জন্য বাগানের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী ঘর। পাইকাররা ওই ঘরে বসে চাষিদের সাথে সওদা করছেন।
জানা গেছে, সাইবেনিখীল এলাকার চাষি ঊষা প্রায় ১২ বছর আগে ২০০টি কলবী লেবুর চারা গাছ কিনে রোপণ করেছিলেন। প্রত্যেকটি চারা গাছে দাম পড়েছিল ১০ টাকা। গাছগুলো লাগানোর দুই বছর পর থেকে ফলন দেয়া শুরু করে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে তার কাছ থেকে লেবু কিনে নিয়ে যায়। লেবু চাষ করে তিনি এখন স্বাবলম্বী।
বড়তাকিয়া বাজারের খুচরা লেবুব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি প্রতি পিস বড় লেবু ২০ টাকা ও ছোট পিস লেবু ১৫ টাকায় বিক্রি করছি। আমি মিরসরাই সদরের পূর্ব পাশে স্বেতছড়া এলাকা থেকে পাইকারিভাবে লেবু কিনে এনেছি। এবার ভালো দামে লেবু বিক্রি করছি। বেশি দাম নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই যে দামে বিক্রি করছে, আমিও একই দামে বিক্রি করছি। এতে দোষের কিছু নেই।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, মিরসরাই উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌর এলাকায় এ বছর প্রায় ৫৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি লেবু চাষ হয় করেরহাট ইউনিয়নের পাহাড়ি অঞ্চলে। রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
লেবু চাষে বাগান স্থাপনে খরচ বেশি। তবে বাগান তৈরি হয়ে গেলে খরচের তুলনায় বেশি লাভ হয়।





