ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অনলাইনে টি-শার্ট ক্রয় করাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় সাতটি দোকানসহ কয়েকটি বসতঘর ভাঙচর ও লুটপাট করা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মারাত্মক আহত হয়েছেন চারজন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের সাতজনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) দুপরে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এই হামলায় আহতরা হলেন জয়পাশা গ্রামের সৈয়দ আশিক (২৩), ফয়সাল কাজী (২২), সৈয়দ সেলিম (৩২) ও সৈয়দ ওলিয়ার রহমান (৫০)।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৮ মার্চ) রাতে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার গ্রুপের জলিল কাজীর ছেলে জুয়েল কাজীর (৩০) সাথে প্রতিপক্ষ যুদ্ধাপরাধী মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের কাছে আত্মীয় হবিবর রহমান ওরফে হবি ফকির গ্রুপের সৈয়দ নুর আলীর ছেলে সৈয়দ জাকিরের (২২) অনলাইনে টি-শার্ট ক্রয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে হবি ফকির সমর্থিত ৫০-৬০ জন লোক অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে জয়পাশা বাজারে সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার সমর্থকদের সাতটি দোকান এবং কয়েকটি বসতঘর ভাঙচর ও লুটপাট করে। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে আহত হন চারজন। আহতরা বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীরা জয়পাশা বাজারে অবস্থিত সৈয়দ মোহম্মদ আলী, আফজাল হোসেন, সৈয়দ এনায়েত হোসেন, আলাউদ্দিন সিকদার, রিপন শেখ, সৈয়দ আফিজ আলী, ইনজামামুল মিয়া, সৈয়দ মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ আলমগীর হোসেনের দোকানে ব্যাপক ভাঙচর ও লুটপাট করে। এছাড়া প্রতিপক্ষের কয়েকটি বসতঘরসহ ফ্রিজ, বৈদ্যুতিক মিটার, আসবাবপত্র, দোকানের মালামাল ভাঙচর করে বিনষ্ট করে। এ সময় তারা দোকানের মালামাল এবং ক্যাশ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এতে অর্ধকোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্তরা। হবিবর ফকিরের নেতৃত্বে শাহিদ ঠাকুর, মনির কাজী, জুয়েল কাজী, রফিকুল ইসলাম, ফয়সাল কাজী, খলিল কাজী, আলমগীর, পলাশ, সেলিম, মেহেদী ও মুরাদসহ প্রায় ৫০-৬০ জন দুর্বৃত্ত হামলায় অংশ নেয় বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী।

সাবেক ‍উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার বলেন, ‘অনলাইনে টি-শার্ট ক্রয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ের হামলার সূত্রপাত হয়। প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিতভাবে বাজারের কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাঙচর ও লুটপাট করে অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করে।

হামলা ভাঙচর ও লুটপাটের ঘটনার ব্যাপারে হবিবর রহমান ওরফে হবি ফকির মোবাইলে ফোনে জানান, ঝামেলার মধ্যে আছি আগে মামলা করে নিই। এখন কোনো বক্তব্য দিব না। বক্তব্য যা দেয়ার পরে দিব। সাংবাদিক সম্মেলন করে সবকিছু জানাব।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।