কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় যানজট যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও বাস-স্টেশন ও জেলার বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে ভয়াবহ যানজটে জনজীবনে নাভিশ্বাস দেখা দিয়েছে। বাস স্টেশনে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইন হয়ে আটকে যায় দূরপাল্লা বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি। এ কারণে যাত্রাপথে অতিরিক্ত সময় গুনতে হচ্ছে রোগী, চিকিৎসক, ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশার লোকজনকে। ফলে মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্টের পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মান। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে বাজার এবং কক্সবাজার ভ্রমণে আসা হাজারো পর্যটক।
এ দিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে ঈদগাঁও বাজারের বিভিন্ন অলিগলি, বাস স্টেশনের আরকান সড়কের অংশ।
সরেজমিন দেখা গেছে, ঈদগাঁও বাস-স্টেশনে কয়েক ধরনের যানবাহন পরিচালনাকারী সংস্থা ও শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বেবিট্যাক্সি, অটোরিকশা ও মিনিবাসসহ প্রত্যেক গাড়ি দাঁড় করানো হয় বাস স্টেশনে। আবার বাজারে যত্রতত্র পার্কিং করে যাত্রী ও মালামাল লোড আনলোড করায় দীর্ঘক্ষণ যানজট সৃষ্টি হয়। ফুটপাতসহ মূল সড়কের অধিকাংশ দখল করে নেয় ওই সব ফিটনেস বিহীন লক্কড়ঝক্কড় যানবাহন গাড়িগুলো ।
আরো দেখা যায়, ঈদগড় সড়কের মাথা নামক স্থানে ছারপোকা গাড়ি, জাপান মার্কেটের সামনে হাইয়েস (মাইক্রোবাস) সিএনজি অটোরিকশা, বাজারের রাস্তার মাথায় অটোরিকশা, মিনি টমটম, ইজিবাইক, সেইফ ইসলামিয়া ডেভেলপার মার্কেটে সামনে সৌদিয়া বাস, কেজি স্কুল মার্কেটের সামনে পূরবী পরিবহনসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, মাত্রাতিরিক্ত অটোরিকশা বেড়ে যাওয়ায় বাসস্ট্যান্ডে যানজটজনিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। যদিও ট্রাফিক পুলিশ বলছে যাত্রীর চেয়ে যানবাহনের সংখ্যা বেশি, দূরপাল্লার বাসগুলো যত্রতত্র পার্কিং করে যাত্রী উঠানামা করায় যানজট সৃষ্টি হয়।
জেবর মুল্লুক নামে এক পথচারী বলেন, যানবাহনের অবৈধ কাউন্টার ও অস্থায়ী পার্কিং উচ্ছেদ করা না গেলে যানজট কমানো সম্ভব নয়। মহাসড়কে ত্রি-হুইলার চলাচলের নিয়ম না থাকলেও প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে প্রতিনিয়ত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শত শত ফিটনেস বিহীন যানবাহন রয়েছে, বছরের পর বছর লাইসেন্স নবায়ন না করে চলছে এসব যানবাহন। বিশেষ করে শত শত ডাম্প ট্রাকের লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই। ফলে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অধিকাংশ চালকের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বহু বছর আগে। যথাসময়ে নবায়ন না করায় সরকারের কোষাগারে রাজস্ব পাচ্ছে না বিটিআরসি।
যানজটের বিষয়ে জানতে চাইলে ঈদগাঁও ট্রাফিক পুলিশের টিআই নাজমুল ইসলাম বলেন, যানজটের মূল কারণ অটোরিকশা ও বেবি ট্যাক্সি। এ ছাড়া ঈদগাঁও থেকে চকরিয়াগামী যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসগুলোও প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। এসব যানবাহনের জন্য আলাদা স্টপেজ থাকলে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানিয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নাজমুল।
ঈদগাঁওয়ে নিত্য যানজটে জনগণের নাভিশ্বাস
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় যানজট যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁও বাস-স্টেশন ও জেলার বৃহত্তম বাণিজ্য কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারে ভয়াবহ যানজটে জনজীবনে নাভিশ্বাস দেখা...





