বরিশালের উজিরপুরে আখ চাষে বাম্পার ফলন এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছর ৪৫ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৭৩৫ টন আখের আবাদ হয়েছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কম-বেশি আখের চাষ হয়। তবে হারতা, বামরাইল ও গুঠিয়া একটু বেশি চাষ হয়ে থাকে।

গত রোববার উপজেলার বিভিন্ন আখের ক্ষেতে সরেজমিনে দেখা যায়, ৪১ ও ৪২ জাতের আখ বেশি চাষ হচ্ছে। দিন দিন আখ চাষে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে যে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে যে এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লক্ষ্যমাত্রা দিন দিন অতিক্রম করবে।

জানা গেছে, এখন আখের ভরা মৌসুম। গরম কিংবা শীত যেকোনো ঋতুতেই পাওয়া যায় আখ। আর এই আখ বাংলাদেশে চিনি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল। আখের রস হালকা থেকে গাঢ় সবুজ বর্ণের মিষ্টি তরল পানীয়। আখ বা আখের রস হলো প্রাকৃতিক মিনারেল ওয়াটার যা আমাদের শুধু তৃষ্ণা নিবারণ করে না বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আখ চাষে সাত থেকে আট মাসের মধ্যে বাজারজাত করা যায় এবং ফলনও পাওয়া যায় বলে আখ চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

হারতা ইউনিয়নের কুচিয়ার পার গ্রামের আখ চাষি হিরো লাল হালদার (৬০) জানান, তিনি গত বছর ৩০ শতাংশ জমিতে আখের চাষ করেছেন ওই পরিমাণ জমিতে চাষ করতে খরচ হয়েছিল ৯০ হাজার টাকা। তিনি পাইকারি এক লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেন। এ বছর সমপরিমাণ জমিতে আখের চাষ করে ৮৫ হাজার টাকা খরচ করে তিনি এক লাখ ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

একই গ্রামের আরেক আখচাষি সাইফুল (৬৮) জানান, তিনি নিজেই সব কাজ করেন। এজন্য তার খরচ খুব একটা হয় না। তবে ৯ শতাংশ জমিতে তার মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে একই খরচে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এ বছর ওই জমির এক লাখ ২০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন বলেও জানান তিনি।

বামরাইল ইউনিয়নের কাজিরা গ্রামের আখ চাষি জসিম বিশ্বাস জানান (৬৫) জানান, তিনি মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে আখ চাষ করেছেন। গত বছরও তিনি একই পরিমাণ জমিতে আখ চাষ করেছেন। তবে ৩২ হাজার টাকা বিক্রি করলেও এ বছর বিক্রি করেছেন ৪০ হাজার টাকা।

উজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কপিল বিশ্বাস জানান, উপজেলার যেসব এলাকায় আখ চাষ বেশি হচ্ছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে ওই এলাকার আখচাষিদের আখ লাগানো থেকে শুরু করে উঠানো পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে ধাপে সার প্রয়োগ ও রোগ বালাই নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা।