কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে পূজা উদযাপন পরিষদ সেক্রেটারিকে গণধোলাই দিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শুক্রবার রাত ১১টায় ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালী মন্দির সংলগ্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে। পরকীয়ার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
গণধোলাইয়ের শিকার জিকু দাশ সুব্রত পূজা উদযাপন পরিষদ ঈদগাঁও উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসাবেও কর্মরত আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কালী বাড়িতে প্রস্তুতি সভা চলছিল। এসময় ঈদগাঁও পাল পাড়া থেকে একদল লোক গিয়ে জিকু দাশকে ডেকে বের করে ও উত্তম মাধ্যম শুরু করে।
প্রত্যক্ষদর্শী টিটু দে, আপন দে, সনজিৎ ও আরো অনেকে জানান, ঘটনার আকস্মিকতায় জিকু দাশ প্রথমে হতভম্ব হয়ে গেলেও পরক্ষণে সামলে উঠে দৌঁড়ে পালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, পাল পাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বী জনৈক নারীর সাথে জিকুর পরকীয়া প্রেম চলছিল। এ নিয়ে আগে জিকু দাশকে সতর্ক করলেও তিনি মানেননি। এর জের ধরে ওই নারীর স্বামী ও ভাইয়ের নেতৃত্বে জিকুকে মারপিট করা হয়।
মারধরের শিকার জিকু দাশ জানান, পূজা উদযাপন পরিষদের মিটিং থেকে ডেকে এনে তাকে মারধর করা হয়।
ওই নারীর সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি বলেন, দু’জনের সন্তান একই স্কুলে পড়ার সুবাদে সন্তানদের স্কুলে আনা নেয়ার সময় উভয়ের মধ্যে কথাবার্তা হত। এ নিয়ে ওই নারীর স্বামী ও ভাই সন্দেহ পোষণ করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
ব্যাপারটি ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর কাছে বিচারাধীন রয়েছে জানিয়ে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে জিকু দাশ আরো বলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সেক্রেটারির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন মন্দির, শ্মশান ও পূজা মণ্ডপের জন্য লাখ লাখ টাকা সরকারী অনুদান এনে দিয়েছেন। এতে ঈর্ষান্বিত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
ঈদগাঁও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরী বলেন, সংঘটিত ব্যাপারটি নিয়ে উভয়পক্ষের সাথে কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরে বিচার বৈঠক করা হবে।





