বিগত ১৬ বছরে রাজনৈতিক দলগুলো যা করতে পারেনি তা করে দেখালেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। মাত্র এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় অসম্ভবকে সম্ভব করে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলেন তারা। এখন নতুন এক দেশ গড়ার মুহূর্তে উখিয়ার রাজপথে মাঠ দখলে মরিয়া হয়ে ওঠেছে দুই চৌধুরী পরিবার। গত দুই দিনে রাজাপালংয়ের শাহজাহান চৌধুরীর পরিবার ও উখিয়া সদরের মরহুম নুরুল ইসলাম চৌধুরীর পরিবারের সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। এ সময় অগ্নিসংযোগ, দোকানপাট ভাঙচুর ও মালামাল লুট হয়। শঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ জনগণ।
বিগত ১৫ বছর ধরে উখিয়া স্টেশন ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। এ সময়ে এখানে বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামী কোনো মিছিল মিটিংও করতে পারেনি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতন হলে বিএনপির স্বল্প সংখ্যক লোক মিছিল নিয়ে উখিয়া সদর স্টেশনের উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ স্টেশনে অগ্রসর হলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত লোকজনের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপি স্টেশন ত্যাগ করলে আওয়ামী লীগ এসে প্রথমে বিএনপির অফিস ভাঙচুর করে। পরে বিএনপির অফিসের পার্শ্ববর্তী একটি দোকানের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
পরের দিন ৬ আগস্ট বিএনপি অফিসের সামনে হাজার হাজার নেতাকর্মী, বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি। এ সময় পুলিশ বক্সসহ বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
রাজাপালং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন বলেন, আমার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা এবং মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। উখিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাহজালার চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ যা করেছে আমরা তা করব না। দুর্নীতি লুটতরাজ ও সরকারি টাকা আত্মসাতের কারণে আওয়ামী লীগের চিরতরে কবর রচিত হয়েছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, উখিয়াতে যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে বিএনপি-জামায়াত ও আওয়ামী লীগ তথা উখিয়ার দুই চৌধুরী পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে।