একসময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দুপুরে পদত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় মনোবল ভেঙে গেছে আওয়ামী লীগের। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতাদের প্রায় সবাই এখনো ফোন বন্ধ রেখেছেন। দুয়েকজন নেতার ফোন খোলা থাকলেও তারা রিসিভ করছেন না। মধ্যমসারির ও তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে আলাপ হলেও আপাতত প্রকাশ্যে কথা বলতে তারা অপারগতা প্রকাশ করছেন। এ দিকে দলীয় প্রধানের পালিয়ে যাওয়ার খবরে চরমভাবে হতাশ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। দলের এই চরম বিপর্যয়ে কোনো নির্দেশনা না পেয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আওয়ামী লীগের মধ্যমসারির ও মহানগর কমিটি এবং সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা আলাপকালে বলেন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন দমন করার সিদ্ধান্তটা যেমন ভুল ছিল তেমনিভাবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আরেকটি বড় ধরনের ভুল করেছেন। কর্মীদের অরক্ষিত রেখে কোনো নির্দেশনা না দিয়ে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা একটি দলের প্রধান এটি করতে পারেন না। অধস্তন নেতাকর্মীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র নিজে ও তার পরিবারের কথা চিন্তা করে খোদ দলীয় প্রধান যদি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তাহলে সেই দলের এবং দলের কর্মীদের কি অবস্থা হতে পারে আর দলের ভবিষ্যৎ কি হতে পারে এটা সহজেয় অনুমেয়।
গতকাল রাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক শীর্ষ নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে না গিয়ে যদি গ্রেফতারও হতেন তাহলে নেতাকর্মীদের অন্তত মুখ রক্ষা হতো। এই যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছে সেখানেও আওয়ামী লীগ মনোভাবাপন্ন দুয়েকজন প্রতিনিধিত্ব দেয়ার জন্য আলোচনা বা দাবি করার সুযোগ থাকত। শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে সেই পথও খোলা থাকল না। এই দলটির ভবিষ্যৎ এখন ঘোর অন্ধকার। যে দলের নেত্রী নিজেকে রক্ষার জন্য পালিয়ে যায়, মনে হয় না অদূর ভবিষ্যতে কেউ আওয়ামী লীগ কিংবা সহযোগী সংগঠনে যুক্ত হতে চাইবেন। কারণ দলের এরকম চরম বিপর্যয়ে নেতাকর্মীদের মনোবল একেবারে ভেঙে গেছে। ভবিষ্যতে ঢেলে সাজানোর মতো কোনো নেতাকেও আপাতত দেখছি না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন সময়ের ব্যবধানে ধাপে ধাপে এগিয়ে সরকার পতন আন্দোলনে রূপ নেয়। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের শুরুর দিকে নমনীয়তা দেখালেও আন্দোলনের গতি বৃদ্ধি পেলে সরকারি দল রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে গেলেই বাধে বিপত্তি। শেষতক দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করায় বেসামাল হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। প্রাশাসনের ওপর ভর করে অতীতের সরকারবিরোধী আন্দোলনে সফলতা পাওয়া এ দলটি চলমান ছাত্র আন্দোলন মোকাবেলা করতে গেলেও একেবারে মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি। আন্দোলন দমনে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলারক্ষায় নিয়োজিতবাহিনী এবং দলীয়ভাবে মোকাবলায় ব্যর্থ হওয়ার পর খোদ শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এ ছাড়াও দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কিছু নেতা বিদেশে পালিয়ে গেছেন। অবশ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিদেশে যেতে চাইলে বিমানবন্দরে আটক হয়েছেন। অন্য শীর্ষ নেতারা কোথায় রয়েছেন সে বিষয়েও কোনো খোঁজ মিলছে না। ফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্র বলছে, ওবায়দুল কাদেরসহ যেসব নেতার নাম শোনা যাচ্ছে তারা ঠিকই পালিয়ে গেছেন। আর আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুসহ অনেকেই ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে এসব নেতা প্রকাশ্যে আসতে পারেন- এমনটি ধারণা করা হচ্ছে।
মনোবল ভেঙেছে আ’লীগের
একসময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দুপুরে পদত্যাগ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় মনোবল...





