ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে অফিস ছেড়ে পালিয়েছেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো: নুরুল ইসলাম। গতকাল দুপুর ১২টায় সেনাসদস্যদের সহায়তায় অফিস ছেড়ে যান তিনি। এ সময় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করবেন বলে আন্দোলনকারীদের কথা দেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সিএজির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত অডিট ভবনে ঢোকে। এ সময়ে তারা সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানকে কলঙ্কিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের লেজুড়বৃত্তি, অরাজনৈতিক সিএজি ভবনকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আওয়ামীকরণ, হাসিনা সরকারের সব লুটপাটের বৈধতাদান, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানসহ নানা অভিযোগে স্লোগান দেন।
বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সাথে সিএজি কার্যালয় এবং আশপাশের অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এতে যোগ দেন। তারা একপর্যায়ে সিএজি কার্যালয়ের দরজায় লাথি মারেন, দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন এবং সিএজির দুর্নীতি, অনিয়ম এবং রাজনৈতিক নোংরামি উল্লেখ করা লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সিএজির মদদপুষ্ট কয়েকজন তার পক্ষে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে। তীব্র বাদানুবাদ ও হাতাহাতির একপর্যায়ে সেনাবাহিনী সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে সেনাসদস্যদের পাহারায় অফিস ত্যাগ করার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন সিএজি নুরুল ইসলাম।
সিএজি কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রচার করা লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এবং বারবার টুঙ্গিপাড়া ও ৩২ নম্বরে যাতায়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রধান অর্থ নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষকের এ পদটি বাগিয়ে নেন নুরুল ইসলাম। সিএজি ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে এই প্রথমবারের মতো সেগুনবাগিচা হিসাব ভবন (এজি অফিস) চত্বরে সেবাপ্রার্থীদের বসার জায়গা সঙ্কুচিত করে বিশাল আকারে শেখ মুজিবের ম্যুরাল স্থাপন করেন। সিএজির আওতাধীন অডিট ও হিসাব দফতরের প্রতিটি অফিসে ব্যক্তিগত তদারকি করে মুজিব কর্নার তৈরি করেছেন।
সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থেকে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর্যন্ত কোনো সিএজি টুঙ্গিপাড়া যাওয়া দূরে থাকুক, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবের মূর্তিতে কখনো ফুল নিয়ে যাননি। নুরুল ইসলামই প্রথম অডিট বিভাগে রাজনীতি চালু করেছেন এবং বারবার টুঙ্গিপাড়া ও ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের অফিসে সবাইকে যেতে বাধ্য করেছেন। অভূতপূর্ব নজির স্থাপন করে রাজনৈতিক দলের মতো সরকারি অর্থে মহা আয়োজন করে শেখ মুজিবের মৃত্যুবার্ষিকী ১৫ আগস্ট, শেখ কামালের জন্মদিন, শেখ রাসেল দিবসসহ মুজিব পরিবারের সবার জন্ম-মৃত্যুদিবস নিয়মিত উদযাপন করেছেন। এসব অনুষ্ঠানে সব কর্মকর্তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল। কেউ ব্যক্তিগত/পারিবারিক কারণে উপস্থিত না থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়া হতো। অধস্তন সব অফিসকে সরকারের অর্থ ব্যয় করে এসব দিবস পালনে বাধ্য করা হয়েছে। কোনো একটা উপলক্ষ পেলেই সব অফিসে শেখ মুজিব নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ব্যানার-ফেস্টুন বানানো ও মুজিব বন্দনায় মেতে ওঠাই তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের প্রধানতম বহিঃপ্রকাশ।
আন্দোলনকারীদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার সফল আন্দোলনের পটভূমিতে গা ঢাকা দেন নুরুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে অর্থ উপদেষ্টার সাথে পরিচিতমূলক অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে প্রকাশ্যে আসেন। তার দুঃশাসন, দুর্নীতি, দলবাজি ও অযোগ্যতায় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় একটি নিষ্ক্রিয় ও অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আগামীর বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ তৈরি করতে সিএজি কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ আছে। নৈতিকভাবে অবক্ষয়ের চূড়ান্ত নুরুল ইসলামকে দিয়ে কোনো শুভ কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই দেশের স্বার্থে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল মো: নুরুল ইসলামের অপসারণ করা অতীব প্রয়োজন বলে লিফলেটে উল্লেখ করেন সিএজি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অফিস ছেড়ে পালালেন সিএজি নুরুল ইসলাম
ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে অফিস ছেড়ে পালিয়েছেন বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) মো: নুরুল ইসলাম। গতকাল দুপুর ১২টায় সেনাসদস্যদের সহায়তায় অফিস ছেড়ে যান তিনি। এ...





