টানা কয়েকদিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ সমগ্র জেলায় প্রাণিসম্পদ ও কৃষি খাতে ৪০০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এরমধ্যে কৃষি খাতে এক লাখ ৬১ হাজার ৩৭১ জন চাষির ক্ষতি হয়েছে ৩৯৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং পশু সম্পদ খাতে ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

গত ২২ আগস্ট থেকে মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) পর্যন্ত গত ছয় দিনের বন্যায় এ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আজ সন্ধ্যায় দৈনিক নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুস সোবাহান এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ড. নজরুল ইসলাম।

ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে আমন ধানের বীজতলার ক্ষতি ৯১০ সেক্টর টাকার অংকে ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, রোপা আমন এক হাজার ৯১৮ হেক্টর বিনষ্ট হয়েছে যার ক্ষতির পরিমাণ ২৫১ কোটি ৬৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা। রোপা আউশ এক হাজার ৯১৮ হেক্টর বিনষ্ট হয়েছে যার ক্ষতির পরিমাণ ২৪ কোটি ৩৩ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। শরৎকালীন সবজি এক হাজার ৬০০ হেক্টর বিনষ্ট হয়েছে যা টাকার অংকে ক্ষতি এক কোটি আট লাখ ১৬ হাজার টাকা। আদা ক্ষতি হয়েছে চার হেক্টর যার টাকা অংকে ক্ষতির পরিমাণ এক কোটি ছয় লাখ টাকা। হলুদ ক্ষতি হয়েছে তিন হেক্টর জমির যা টাকার অংকে ক্ষতি হয়েছে ১৮ লাখ নয় হাজার টাকা। আখ ক্ষতি হয়েছে ২ দশমকি ৫ সেক্টর জমির টাকার অংকে যার ক্ষতির পরিমাণ ৬৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। পান বরজ ক্ষতি হয়েছে ২ দশমকি ৩ হেক্টর জমির। টাকা অংকে ক্ষতি হয়েছে ৩৪ লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

অপরদিকে পশুসম্পদ খাতে ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি ৬৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এরমধ্যে খামারে দুধ ও ডিমের ক্ষতি হয়েছে এক কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ টাকা। বন্যায় হাঁস ৭১৫ ছাগল ১৮, গরু ১৬ ও মুরগি ৮৭ হাজার ৮৯৮টি মৃত্যুবরণ করে। যার টাকার অংকে ক্ষতি দাঁড়ায় তিন কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকা।

পশু খাদ্য ভুসি ৩৬ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা। পশু খাদ্য ঘাসে ক্ষতি হয়েছে আট লাখ ৩৪ হাজার টাকা। পশু খাদ্য খড়ে ক্ষতি হয়েছে ছয় লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং পশুর দানাদার খাদ্যে ক্ষতি হয়েছে আট কোটি ৩০ লাখ টাকার।