নাটোরের বাগাতিপাড়ায় চাচাকে পিতা বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দায়ারামপুর ইউনিয়নের ডুমরাই (ঢাকাপাড়া) এলাকার বাবলু হোসেন (৩৯) তার মৃত চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখকে কাগজেকলমে পিতা দেখিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছেন। তার প্রকৃত পিতা তৈয়ব আলী শেখ। বাবলু নিয়মিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি সোনালী ব্যাংক বাগাতিপাড়া শাখা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বাবলুর চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখ ১৯৭৯ সালে অবিবাহিত অবস্থায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আর বাবলু জন্ম ১৯৮৫ সালে। ২০০৮ সালে সে প্রথম ভোটার হয়। তখনকার জন্ম সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে তার পিতার নাম ছিল তৈয়ব আলী এবং মাতা জরিনা বেগম। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার লোভে ২০১৮ সালে তার পিতা তৈয়ব আলীর নাম পরিবর্তন করে তার চাচা আয়ুব আলী শেখের নাম সংযোজন করে।
একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা (বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত অ্যাটেনডেন্ট) আনোয়ার হোসেন বলেন, আয়ুব এবং তিনি ছোটবেলা থেকে একই সাথে লেখাপড়া করেছেন। তারা উভয়েই ভারতের মিত্রবাহিনীর অধিনে ট্রেনিং নিয়ে ৭নং সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধ করেন। আয়ুব অবিবাহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আর বাবলু আয়ুব আলীর ভাই তৈয়ব আলীর ছোট ছেলে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবলু বলেন, তার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়ুব আলী শেখের পালক ছেলে ছিল সে। প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মদাতা পিতার নাম তৈয়ব আলী ভুলে লেখা হয়েছিল। পরে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের সাথে পালক ছেলের বিষয়ে কথা বলে তাদের সহায়তায় পিতার নাম আয়ুব আলী শেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা হয়।
বাগাতিপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান বলেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সময়ে আজাদ হোসেন উপজেলা ডেপুটি কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। আজাদ হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, তার শরীর খারাপ। আর সেই সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনামিকা নজরুল বলেন, বিষয়টি তিনি আবগত না। কাগজপত্রাদি দেখে ব্যবস্থা নিবেন।