পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে চার তরুণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর চাচা বাদি হয়ে গত শনিবার দুপুরে তেতুঁলিয়া মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় আটক চার তরুণকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার এসএম সিরাজুল হুদা এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলো তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ, নাহিদ হাসান, রেদোয়ান হোসেন রতন ও সাব্বির হোসেন।

পুলিশ সুপার জানান, ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর বাড়ি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার গোমনাতি এলাকায়। গত ৫ সেপ্টেম্বর তিনি বাসে তেঁতুলিয়াতে আসেন। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় তেঁতুলিয়া বাজার থেকে দর্জিপাড়া এলাকার আব্দুল্লাহ তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দর্জিপাড়া গ্রামের বুড়াঠাকুরের আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরে রাতে আব্দুল্লাহসহ দুইজন তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে দর্জিপাড়া ফরেস্টে নিয়ে আব্দুল্লাহ, নাহিদ, রতন ও সাব্বিরসহ ৬-৭ জন তরুণ পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পরে শুক্রবার রাতে ওই তরুণীকে দর্জিপাড়া ফরেস্টে দেখতে পায় স্থানীয়রা। তাকে উদ্ধার করে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় নিয়ে যান তারা। সেখান থেকে তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাতেই বিজিবির সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ওই চার তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কনক কুমার দাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিরুল্লা, তেঁতুলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আরমান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।