স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি, কৃষি, মৎস্য প্রকল্পের পাশাপাশি সড়ক, সেতু ও কালভার্টের ক্ষতির পরিমাণও কম নয়। এর আগে কখনো এক সাথে এত খাতে ক্ষতি সাধন হয়নি। পানি কমলেও রয়ে গেছে ক্ষত চিহ্ন। বন্যায় এলজিইডির প্রায় ১১০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
মিরসরাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই সাম্প্রতিক বন্যায় ৬০টি সড়ক, ২৫টি সেতু ও কালভার্টের ক্ষতি হয়েছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর, করেরহাট ইউনিয়ন, ধুম ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি সড়ক, ওচমানপুর ইউনিয়ন, ইছাখালী, কাটাছরা, মিঠানালা ইউনিয়ন, মুহুরী প্রজেক্ট ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক। অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক সড়ক পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা দেয়া বড় বড় গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। দুর্ভোগে পড়েছে ওই সড়কে চলাচলকারীরা।
এ বিষয়ে মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার মৎস্যচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ওসমানপুর-মুহুরী প্রজেক্ট সড়ক, জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট সড়কসহ বেশ কিছু সড়ক ভেঙে গেছে। এসব সড়ক মৎস্যচাষিরা মাছ পরিবহনে ব্যবহার করে থাকে। এমনতিতে বন্যায় মৎস্য খাতে মিরসরাইয়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ভাঙা সড়কের কারণে মাছ সঠিক সময়ে বাজারজাতকরণ করতে না পারলে আবার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের সরকার তালুক গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, স্মরণ কালের ভয়াবহ বন্যায় করেরহাট এলাকার প্রায় সব সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। বারইয়ারহাট-রামগড় সড়কের অবস্থাও করুণ। ১০ মিনিটের পথ এখন সময় লাগে ৪০ মিনিট।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা বলেন, গত ২১ আগস্ট থেকে টানা সাত দিনের বন্যায় মিরসরাইয়ে ৬০টি সড়ক ও ২৫টি সেতু কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। তিনি আরো বলেন, এখনো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা আসছে। সবগুলো একসাথে করে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো।





