পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভক্ত করতে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র জামায়াত ইসলামী মেনে নিবে না। বর্তমান সরকারের ঘোষিত সময়েই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে।
শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠে জেলা জামায়াত ইসলামী আয়োজিত এক কর্মী ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভক্ত করতে দেশী-বিদেশী নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। জাতিগতভাবে বিভেদ সৃষ্টি করে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জামায়াত ইসলামী এটি কখনোই হতে দিবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রহমত ও বরকতের বাংলাদেশ চাই। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা স্থানান্তরের একটি ডেটলাইন দিয়েছে। এর মধ্যেই সব সংস্কার করে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করে নির্বাচন দেবেন। আমরা সেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে অনেকে ভুল বোঝার চেষ্টা করে, কিন্তু জামায়াতের আমির আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের জুন এবং ২৫-এর ডিসেম্বর দু’টি ডেটলাইন দিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, যে ডেটলাইন দিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করলে আমাদের আপত্তি নেই। তবে ১৪, ১৮ ও ২৪-এর মতো নির্বাচন হলে এ দেশের মানুষ আর কখনোই এমন নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার জন্য পুলিশে সংস্কার, সংবিধানের সংস্কার, প্রশাসনের সংস্কারসহ সব সংস্কার ন্যূনতমভাবে শেষ করতে হবে। হাসিনা ও তার সহযোগীরা যারা দেশকে রক্তের বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছেন, তাদের বিচার হতে হবে। বিচার দৃশ্যমান করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে এবং আমরা সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’
বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমির এস এম আবদুচ ছালাম আজাদের সভাপতিত্বে এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগরের জামায়াতের আমির আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রামের টিম সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, টিম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, টিম সদস্য অধ্যাপক নুরুল আমিন।
এছাড়া সমাবেশে তিন পার্বত্য জেলা ও কক্সবাজারের জামায়াত ইসলামীর আমিরসহ বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।









