মিরসরাইয়ে যুবদল নেতা সায়েদ আলম প্রকাশ সাঈদ (৩৫) হত্যার এক বছর পর মামলার রহস্য উদঘাটন ও দুইজন আসামিকে গ্রেফতার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। সায়েদ জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম-সম্পাদক ছিলেন।

রোববার (১৭ আগস্ট) দুপুরে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আবদুল হালিম।

ওসি এম আবদুল হালিম বলেন, ‘গত বছরের ১৩ আগস্ট সোনাপাহাড় এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটার পূর্বে সোনাপাহাড়ের পাদদেশ হতে একটি খন্ড বিখন্ড লাশ উদ্ধার করে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। যা গত বছরের ৫ আগস্ট হতে নিখোঁজ সায়েদ আলম প্রকাশ সাঈদ আলম (৩৫) এর বলে পরিবার দাবি করে পরিবারের পক্ষ হতে তার ভাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার ঘটনা পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এজাহারনামীয় ১নম্বর আসামি মো: ইমাম হোসেনকে চলতি মাসের ১১ আগস্ট গ্রেফতারের পরে জিজ্ঞাসাবাদে সায়েদ আলম হত্যার সাথে নিজে জড়িত থাকলেও স্বীকারোক্তি প্রদান করেনি। কিন্ত মামলার ঘটনা সম্পর্কে মো: ইমাম হোসেন তার শ্বশুর ও সাকিবের পিতা মো: জসিম ঘটনার বিষয়ে জানালে জসিম ঘটনার বিষয়ে জানতে পারে এবং নিজের মেয়ের জামাই ও ছেলের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষী হিসাবে ফৌজদারি কার্য বিধি ১৬৪ ধারা জবানবন্দি প্রদান করলে মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়।’

ওসি আরো বলেন, ‘পরবর্তীতে অপর পলাতক আসামি জসিমের ছেলে মো: শাকিব (২১) কে র‌্যাব-১১ এর সহায়তায় গত ১৫ আগস্ট নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সায়েদ আলম, সাকিব ও ইমাম পরষ্পর বন্ধুর মত ছিলো, তাদের প্রায় দুই বছরের জানাশুনা ছিল। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় অপরাধের সাথে জড়িত ছিল। কিন্তু শাকিবকে সায়েদ আলম কর্তৃক চুরির অপবাদে মারধর এবং সায়েদ আলম শাকিবের শিশু ছেলেকে আটক করে শাশুড়ি নিকট হইতে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করার ঘটনার জের ধরে ধীরে ধীরে সায়েদ আলমের প্রতি শাকিবের ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এমতাবস্থায় গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে রাত অনুমান ১১টার দিকে সাকিবের বোন জামাই ইমামের মাধ্যমে সায়েদ আলমকে ইমামের খামারে ডেকে নিয়ে এসে মাদক সেবন করায়। একপর্যায়ে সায়েদ আলম মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে আসামি শাকিব পেছন দিক থেকে ধারালো রামদা দিয়ে সায়েদের মাথায় কোপ মারে, সায়েদ মাথায় হাত দিলে শাকিব আবারো কোপ মারে। ওই কোপে সায়েদের বাম হাতটি কেটে শরীর থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর শাকিব আরেকটি কোপ মারলে সায়েদ আলম মাটিতে পড়ে যায়। তখন ইমাম হোসেন সায়েদ আলমের গলা কেটে জবাই করে। পরবর্তীতে শাকিব ও ইমাম হোসেন সায়েদ আলম এর লাশ বস্তায় ভরে কচ্ছইব্যা ঘোনা সোনাপাহাড়ের পাদদেশে ফেলে দেয়। এই বিষয়ে আসামি মো: শাকিব বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারামতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।’