যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর তিনদিনেও কারণ উদঘাটিত না হওয়ায় অবশেষে মাঠে নেমেছে পিবিআই যশোরসহ পুলিশের একাধিক ইউনিট। এটি পরিকল্পিত জোড়া হত্যাকাণ্ড? না কি অন্য কোনো কারণ, সে রহস্য নিয়ে এলাকায় নানামুখী বক্তব্য প্রচার হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া লাশ দু’টি হচ্ছে রঘুনাথপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মনিরুজ্জামান (৫২) ও তার স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৪৫)। দ্রুত রহস্য উদঘাটনের জোর দাবি উঠেছে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।

গত ১৩ জুন (শুক্রবার) রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ১৪ জুন ভোর ৬টার দিকে গ্রামের লোকজন মনিরুজ্জামানের লাশ বাড়ির উঠানের পাশে গাছের সাথে অর্ধ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং স্ত্রীর লাশ বাড়ির পাশের মাঠে পড়ে থাকতে দেখেন। মনিরুজ্জামানের শরীরে কাঁদা মাটি লাগা ছিল। বাইরে কোথাও থেকে টেনে হেঁচড়ে আনা হয়েছে এমনটি ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঝুলন্ত লাশটি হাটু গেড়ে থাকা অবস্থায় ছিল। যা আত্মহত্যার কোনো সিমটমের মধ্যে পড়ে না বলেও মন্তব্য পুলিশসহ স্থানীয়দের। যে কারণে এটা পরিকল্পিত জোড়া হত্যাকাণ্ড, নাকি অন্য কিছু তা নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী দম্পতির মেয়ে মনিরা (৩০) ও ছেলে মাসুদের (১৮) দাবি, তাদের বাবা-মা আত্মহত্যা করেননি। তাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যা রহস্য উন্মোচন ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটক দাবি করেছেন। কঠোর শাস্তির আওতায় আনারও দাবি তাদের।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ওই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহও ছিল। যা আত্মহত্যা পর্যায়ে পড়ে না। এলাকাবাসীর দাবি ময়নাতদন্তের পাশাপাশি পুলিশ এ ঘটনার কারণ ও রহস্য উদঘাটিত করুক দ্রুত।

ঘটনাস্থলে যাওয়া বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে মনিরুজ্জামানের ঝুলন্ত লাশ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করেন আর তার স্ত্রী রেহেনার লাশ বাড়ির উত্তর পাশের একটি মাঠ থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনই সব পরিস্কার করা যাচ্ছে না।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল মিয়া জানিয়েছেন, সীমান্ত ঘেঁষা রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে মনিরুজ্জামান রেহানা দম্পতির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা এখনই তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। লাশ দু’টি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই যশোরসহ আরো কয়েকটি টিম কাজ করছে। দ্রুত সব কিছু জানা যাবে।