‘সুখী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী জামায়াত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে’ বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা বলেছেন, ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে কমিশনকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ঢাকা-১৩ সংসদীয় আসন আয়োজিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে গণমিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাফরুল দক্ষিণ থানা আমির ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কাফরুল উত্তর থানা আমির রেজাউল করিম মাহমুদ, পশ্চিম থানা আমির আব্দুল মতিন খান, জোন টিম সদস্য মো: জসিম উদ্দিন, শ্রমিক নেতা মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা আতিক হাসান রায়হান, ওয়াহিদুল ইসলাম সাদিক, আবু নাহিদ ও আশিকুর রহমান প্রমূখ।
গণমিছিলটি মিরপুর-১০ নম্বর গোল চক্কর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাজীপাড়া বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
আব্দুর রহমান মূসা বলেন, ‘আওয়ামী-বাকশালীরা পরিকল্পিতভাবে দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে দেশকে ফ্যাসিবাদী ও মাফিয়াতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো। তারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশকে পরিণত করেছিলো এক বর্বর রাষ্ট্রে। কিন্তু ৩৬ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার সফল বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারি অপশক্তির পতন হয়েছে এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ তারিখ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।’
তিনি ঘোষিত তফসিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী আমলের মতো নির্বাচনের নামে তামাশা দেখতে চাই না বরং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার দেখতে চাই। তিনি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনকে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলায় করেই নির্বাচন কমিশনকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কারো প্রতি অনুরাগ-বিরাগ প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে। সকল পক্ষের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডও নিশ্চিত হওয়ার দরকার। আর নির্বাচনকে পেশীশক্তি মুক্ত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। সকল ভোটারদের জন্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি।’
তিনি জাতিকে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশনকে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।









