ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলাকারী সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান সুজন (৪৫) ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় জুলাই আন্দোলনে ছাত্র হত্যাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে।

রোববার (১৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে কারাগারের সূর্যমুখী ভবনের একটি কক্ষে জানালার সাথে গামছা পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।

এদিকে ঘটনার পরপরই তাকে কারা হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ঢামেক হাসপাতালে নিলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

সাভার মডেল থানা ও বিরুলিয়া ফাঁড়ি ইনচার্জ (এসআই) ওয়াজেদ আলী ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বরাত দিয়ে বিকেলে নয়া দিগন্তকে তার মৃত্যূর খবর নিশ্চিত করেন।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো: মোতাহের হোসেন বলেন, বন্দি সাইদুর রহমান সুজন ডিটেনশনে সূর্যমুখী ভবনের একটি সাধারণ কক্ষেই ছিলেন। সকালে তিনি নাস্তাও করেছেন। ওই কক্ষে তিনজন বন্দি থাকতেন। তাদের একজন আদালতে ছিলেন, অপরজন ঘুমিয়ে ছিলেন, এ সুযোগে ফাঁস দেন সুজন। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাসহ মোট ১৯টি মামলা রয়েছে। তবু কারা অভ্যন্তরে আত্মহত্যার ঘটনা কিভাবে হলো, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুজনকে প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ছুড়তে দেখা যায়। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া এলাকায় জমি দখলসহ আধিপত্য বিস্তারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়। ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে চলে যান ‍সুজন।

জানা যায়, এ বছরের ২০ জানুয়ারি রাজধানীর উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। এর আগে হাসিনার শাসনামলে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কাকাবর এলাকায় গ্রেফতার হয়েছিলেন সুজন।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আশিক ইকবাল জানান, সাভারের প্রথম শহীদ মেধাবী শিক্ষার্থী ইয়ামিন হত্যাসহ ১৯টি মামলার আসামি এ সুজন।