ফেনী সরকারি কলেজে ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, সহ-সমন্বয়ক ও সংগঠকদের উপর হামলা চালিয়েছে কলেজ ছাত্রদলের এক নেতা।
মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে শহরের হাসপাতাল মোড় এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সাবেক সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, সহ-সমন্বয়ক সালমান হোসেন এবং সংগঠক নাদিয়া আক্তার। আহতদের মধ্যে মাহফুজ ফেনী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক পদ হারানো জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ও তার ১০ থেকে ১৫ জন সহযোগী হাসপাতাল মোড়ে এক নারীকে ইভটিজিং করছিল। প্রতিবাদ করার পর জিল্লুর ও তার সহযোগীরা আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, সালমান হোসেন ও নাদিয়া আক্তারের উপর হামলা চালায়। হামলার সময় আবদুল্লাহ আল মাহফুজের গলা, মাথা ও কপালে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়াও, তার মোবাইল, মানিব্যাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনতাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সূত্র জানায়, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহর উপর হামলার প্রতিবাদে গেল মঙ্গলবার ফেনী শহরে মশাল মিছিল করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। কর্মসূচী শেষে হাসপাতালে এক রোগীকে দেখতে গিয়ে ফিরতি পথে এই ঘটনা ঘটে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দফতর সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির খবর প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি অভিযুক্ত জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সামছুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, সোমবার (২৮ এপ্রিল) জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির খবর প্রকাশের পর এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায়ও একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এছাড়াও, জিল্লুরের বিরুদ্ধে আরো চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।





