ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই দেশ চলবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ধর্মীয় বিভাজনের পাত্র নয়। এখানে ন্যায়ের শাসন, সমঅধিকার এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা ক্ষমতায় থেকে ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়েছে তারা এই জাতির ক্ষত গভীরতর করেছে।’

শনিবার (২৮ জুন) রাতে আগৈলঝাড়ার কোদালধোয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাছে কীর্তন আঙ্গিনায় আয়োজিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো কৌশলগত রাজনীতি নয়, তিনি নীতিগত অবস্থান থেকে বারবার বলেছেন বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় কারো দয়ায় টিকে নেই। তারা এদেশের অবিচ্ছেদ্য নাগরিক, জন্মগত অধিকারেই তারা এই রাষ্ট্রে সমান মর্যাদার দাবিদার।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যারা মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে তারাই বাস্তবে ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তারা ধর্মের আসল রূপ সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়ের শিক্ষা পদদলিত করেছে। তারা ধর্মের নাম নিয়ে রাষ্ট্রীয় বিভাজনের বীজ বুনেছে। এটি রাজনৈতিক ভণ্ডামির উৎকৃষ্ট উদাহরণ।’

রামশীলের সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইঞ্জিনিয়ার সোবহান বলেন, ‘সেই সহিংসতার নেপথ্য কারিগররা আজো বিচারের মুখ দেখেনি। বরং তারা রাষ্ট্রীয় আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে রক্ষা পেয়েছে। এটিই বর্তমান সরকারের নৈতিক দেউলিয়াপনার প্রমাণ। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এ ধরনের অপরাধীরা কোনোভাবেই ছাড় পাবে না। আমরা আইন ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা চায়, বিভাজন নয় সহাবস্থান চায়। জাতিকে ধর্মীয় ও জাতিগত বিভক্তির চক্রান্ত থেকে উদ্ধার করা আজ আমাদের নৈতিক কর্তব্য, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

কীর্তন উৎসবের সভাপতি নবীন সরকারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য দেন আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি শোভন রহমান মনিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।