চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে চলমান সংস্কার কমিশনে এক কমিশনের দাবিতে গেট মিটিং ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।

বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে কারখানার প্রধান ফটকে এ বিক্ষোভ করা হয়।

এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেন কারখানার স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক কর্মচারীরা। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ১০টা পর্যন্ত চলে তাদের এই বিক্ষোভ। বিভিন্ন দাবি সম্মিলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড বহন করে তারা।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)। ২০০৬ সালের স্থাপিত ডিএপিএফসিএল কারখানা দৈনিক গড়ে এক হাজার ৮০০ টন সার উৎপাদন করে। বর্তমানে ২৪১ জন শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে ১০৮ জন শ্রমিক ১৩৩ জন কর্মচারী।

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, পে-কমিশনভুক্ত-কর্মচারীদের ন্যায় মজুরি কমিশনের শ্রমিকদের পাঁচ ভাগ প্রণোদনা ও ১৫ ভাগ বিশেষ বকেয়াসহ বাস্তবায়ন করতে হবে। নিরবচ্ছিন্নভাবে ডিএপিএফসিএল কারখানা চালু রাখার স্বার্থে ফসফরিক অ্যাসিড প্রদান নিশ্চিত করা। পে-কমিশন ও মজুরি কমিশনের সকল শ্রমিক- কর্মচারীদের প্রমোশন তিন বছর বহাল রেখে দ্রুত প্রমোশন প্রদান নিশ্চিত করা। বিসিআইসির প্রধান কার্যালয়ের কর্মচারীদের ন্যায় কারখানার শ্রমিক কর্মচারীদের পেনশনের আওতাভুক্ত করা। মজুরি কমিশনের ন্যায় পে কমিশনের আওতাভুক্ত কর্মচারীদের ঝুঁকি ও নৈশ ভাতা প্রদান করা।

শ্রমিকদের পে কমিশনের দাবিতে আন্দোলনে মাস্টার অপারেটর মেহেদী হাসান মাসুদের সঞ্চলনায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ফেডারেশন এর সহ-সভাপতি মো: হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগ ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ফেডারেশন-এর যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুল আজিম সবুজ।

এছাড়া শ্রমিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন অপারেটর রেজাউল করিম, সহকারী লাইব্রেরিয়ান মোহাম্মদ মুসা, হাই স্কিল অপারেটর জাহিদুল আলম, ফিরোজ আলম, জহুরুল ইসলাম, স্কিল অপারেটর রেজাউর রহমান, নাজমুল আশরাফ রাফি, সজীব শেখ প্রমুখ।

বিক্ষোভ শেষে কারখানার ভেতরে সড়ক প্রদক্ষিণ করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। পরে তাদের দাবিগুলো নিয়ে শিল্প উপদেষ্টা ও সচিব বরাবর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, কমিশন বৈষম্য নিরসনসহ বেশ কিছু দাবি নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ করেন। পরে আমাদের একটি স্মারকলিপি দেন। আমরা বিসিআইসির কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করব।