নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগে প্রকাশ্যে দুই যুবককে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
শনিবার (১৪ জুন) এ ঘটনা ঘটে এবং রোববার ও সোমবার ভিডিওটি ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, ইউপি সদস্য ওমর ফারুক ও তার এক সহযোগী ওই দুই যুবককে অমানুষিক নির্যাতন করছে।
শনিবার বিকেলে উপজেলার বারদি ইউনিয়নের মসলেন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দুই যুবককে নির্যাতন করা হয়। রোববার ও সোমবার ভাইরাল ভিডিও নিয়ে নারায়ণগঞ্জে তোলপাড় শুরু হয়।
চুরির প্রমাণ পেয়েও থানা পুলিশে না দিয়ে নিজেরাই পিটিয়ে নির্যাতনের বিষয়টি আইন অমান্য করার অভিযোগ উঠে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার বিকেলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
নির্যাতিত যুবক বারদী ইউনিয়নের মসলন্দপুর গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে আল-আমিন ও একই গ্রামের জামান মিয়ার ছেলে পারভেজ।
জানা যায়, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের মছলন্দপুর এলাকার এভারগ্রীণ কিন্ডারগার্টেন নামের একটি স্কুল থেকে গত সোমবার রাতে নয়টি ফ্যান ও বৈদ্যুতিক মোটর চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে পাশের আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত শনিবার দুপুরে ফ্যান ও মোটর বিক্রি করতে গেলে জনতার হাতে ধরা পড়ে আল-আমিন ও পারভেজ নামের দুই যুবক। এ সময় তাদের ধরে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।
পরে তাদের শনিবার বিকেলে মসলন্দপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটি বিচার সালিশের আয়োজন করা হয়। সেই সালিশে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওমর ফারুকসহ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বিচার সালিশে চুরির দায়ে দুই যুবককে পিটিয়ে নির্যাতন করা হয়। বিচার সালিশে ইউপি সদস্য ওমর ফারুক ও মসলন্দপুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ ওরফে নুরা পাগলা নিজেই প্লাস্টিকের পানির পাইপ দিয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনে তাদের প্রায় অর্ধ শতাধিক আঘাত করে। এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য গলায় পা দিয়ে চেপে ধরেন।
এলাকাবাসীর দাবি, ওই এলাকায় তিন যুবক আল আমিন, শান্ত ও পারভেজ তাদের চুরির কারণে মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও বাড়িঘরের বিভিন্ন জিনিস পত্র লুটে নিয়ে যায়। তাদের বিভিন্ন সময়ে স্বাভাবিকভাবে বিচার সালিশ করায় তারা নিজেদের শুধরে নেয়নি। তাই রাগান্বিত হয়ে ইউপি সদস্য নিজেই লাঠি দিয়ে আঘাত করেছেন।
অভিযুক্ত বারদী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওমর ফারুক বলেন, ‘তাদের বিচার করতে করতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। চোরেরা তার আত্মীয় হওয়ার কারণে এমনভাবে শাসন করেছেন। বিচার সালিশে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশে দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।’
সু-শাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সোনারগাঁ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো: মিজানুর রহমান মামুন বলেন, ‘ভিডিওতে যা দেখলাম কুকুরকেও এভাবে মানুষ মারতে পারে না। পেছনে হাত বেধে দুই ব্যক্তি একের পর এক আঘাত করছেন। তবে তারা অপরাধী হলে পুলিশে দিতে পারতেন।’
সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, ‘দুই যুবকে হাত বেধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’









