গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর ফিরতে পারবে না। বাংলাদেশে আর কাউকে নতুন করে আওয়ামী লীগ হতে হতে দেয়া যাবে না। যারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের মত ফ্যাসিবাদ রূপে আর্বিভাব করতে চান আপনারা আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে এক র্যালিতে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় উপজেলার মোরগমহল থেকে শুরু করে র্যালিটি হাসপাতাল মোড় হয়ে নতুন রাস্তা মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এতে উপজেলার ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
আবু হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিলো। দেশে গুম খুন করে বিরোধী মতকে দমন করেছিল। জুলাইয়ে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালায় হাসিনা। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আর ফিরতে পারবে না। বাংলাদেশে আর কাউকে নতুন করে আওয়ামী লীগ হতে হতে দেয়া যাবে না। যারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগের মত ফ্যাসিবাদ রূপে আর্বিভাব করতে চান আপনারা আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেন। আওয়ামী লীগের মত হতে চাইলে আপনাদের পরিণতিও ভয়াবহ হবে। এই কিশোরগঞ্জে বড় বড় নেতা পেয়েছিল কিন্তু কেউ এলাকার জন্য কাজ করে নাই। আমরা এই এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এই এলাকার স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা কাজ করবো। এই এলাকায় কোনো চাঁদাবাজ দখলবাজের ঠাঁই হবে না।
তিনি আরো বলেন, বিগত সময় আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করতো প্রশাসন। এখন কোনো দল ক্ষমতায় নাই কিন্তু প্রশাসনের কেউ কেউ নির্দিষ্ট দলের হয়ে কাজ করছে। আপনাদের বলবো নিরপেক্ষ হয়ে জনগণের জন্য কাজ করুন। তা না হলে আপনাদের পরিণতও খারাপ হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আজকে এক বছর। ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছিলাম। ছাত্র জনতা যেই আকাঙ্খা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, জীবন দিয়েছিলো, সেই আকাঙ্খা এখনও বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। অর্ন্তবর্তী সরকার ছাত্র জনতার রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় এসে জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানী করছে। নিহতদের পরিবার এখনও ক্ষতিপূরণ পায়নি। আহতদের সবার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি। এই সরকারের বড় ব্যর্থতা এক বছরেও জুলাই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে না পারা। আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করুক।
শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, ৫ আগস্টের আগে এই গণঅধিকার পরিষদই লড়াই করেছে। চাঁদাবাজ, দখলবাজদের বিরুদ্ধে যেকোনো লড়াই করতে প্রস্তুত। কেউ চাঁদাবাজি, দখলবাজি করলে তার বিরুদ্ধেও জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করবো। কোনো চাঁদাবাজ দখলবাজের ঠাঁই হোসেনপুর হবে না।
ছাত্র অধিকার পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন রাজের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী, ছাত্র অধিকার পরিষদ, হোসেনপুর উপজেলার সভাপতি সালমান প্রমুখ।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সুহেল হায়দার, হোসেনপুর পৌর আহবায়ক মিজানুর রহমান, উপজেলার আহবায়ক ইমরান হাসান, সদস্য সচিব হুমায়ুন কবীর, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনির খান, সাধারণ সম্পাদক রাসেল শেখ, শ্রমিক অধিকার সভাপতি আলম, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









